ঢাকা থেকে বিপুল গাঁজা নিয়ে কুয়েত বিমানবন্দরে আটক বাংলাদেশি

বাংলাদেশ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান জব্দ করেছে কুয়েতের কাস্টমস বিভাগ। এ সময় ৪ কেজি ৭৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৩১টি ব্যাগ ৬ হাজার ২১১টি নিষিদ্ধ এক্সট্যাসি ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৫-এ তল্লাশি চালিয়ে মাদক পাচারকালে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছেন কর্মকর্তারা।
সংবাদমাধ্যম আরব টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৫-এ তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও সাইকোট্রপিক দ্রব্যাদির বড় চালান আটকে দিয়েছেন দেশটির শুল্ক কর্মকর্তারা। বাংলাদেশি এক যাত্রীর কাছ থেকে এসব মারাত্মক মাদক জব্দ করা হয়। তাকে আটক করা হয়েছে। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
কুয়েতের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে জানিয়েছে, কাস্টমস প্রশাসনের বন্দরবিষয়ক, তল্লাশি ও তদন্ত বিভাগের উপ-মহাপরিচালক সালেহ মোহাম্মদ আল-ওমরের সরাসরি উপস্থিতি ও তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
কাস্টমস বিভাগ জানায়, বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ফ্লাইটযোগে আসা এক যাত্রীর গতিবিধি দেখে সন্দেহ হলে তাকে তল্লাশির আওতায় আনা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যাগগুলো থেকে ৪ কেজি ৭৫০ গ্রাম গাঁজা ও তিনটি পৃথক ব্যাগ থেকে ৩১৯ দশমিক ৩ গ্রাম মেথামফেটামিন (ক্রিস্টাল মেথ) জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে আরও ৩১টি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এসব ব্যাগের ভেতরে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬ হাজার ২১১টি নিষিদ্ধ এক্সট্যাসি ট্যাবলেট পাওয়া যায়। জব্দকৃত এই শক্তিশালী এক্সট্যাসি বড় ধরনের মনঃপ্রভাবক (সাইকোট্রপিক) মাদক হিসেবে পরিচিত।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রয়োজনীয় প্রাথমিক শুল্ক ও প্রশাসনিক কাজ শেষে একটি আনুষ্ঠানিক জব্দ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই বাংলাদেশি নাগরিক এবং উদ্ধার হওয়া সমস্ত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্তের জন্য কুয়েতের ‘সাধারণ মাদক ও অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিভাগে’ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিবৃতিতে কাস্টমস প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, জননিরাপত্তা ও দেশটির নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে সকল প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং যে কোনো ধরনের মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি বহাল থাকবে।
