
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই ওয়াসিম আল-আসাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধে তার বিরুদ্ধে এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হলো।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত ওয়াসিম আল-আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অমানবিক নিপীড়ন চালানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন।
ক্ষমতাচ্যুত আসাদ সরকারের মেয়াদে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও আঞ্চলিক মাদক চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। আসাদ সরকারের পতনের পর গঠিত নতুন বিচার কাঠামোর অধীনে সাবেক শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ সুবিধাভোগী ও সহযোগীদের বিচারের মুখোমুখি করার অংশ হিসেবে এই রায় দেওয়া হলো।
এর আগে, গত ১১ আগস্ট দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত আসাদকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। তার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকেও।
আদালত রায়ে বলেছে, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে আসাদ সরকারের সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। সেসময়ের ওই সংঘাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল।
এপি জানিয়েছে, একই মামলায় আল-আসাদের চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। ওই দমন অভিযান থেকেই পরবর্তী সময়ে দেশটিতে অভ্যুত্থান ও গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক যখন রায় পড়ছিলেন, তখন বন্দির পোশাক পরা নাজিবকে একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

