logo

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে নাসার মহাকাশ দূরবীন

এনবিসি নিউজ
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে নাসার মহাকাশ দূরবীন
নাসার তৈরি ‘নিল গেহরলস সুইফট অবজারভেটরি’ মহাকাশ দূরবীন। ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে ফের বড় ধাক্কা খেতে খেল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা ‘নিল গেহরলস সুইফট অবজারভেটরি’ মহাকাশ দূরবীনটিকে শেষ মুহূর্তে রক্ষা করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাকাশযান। তীব্র গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর পরই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ২০০৪ সালে উৎক্ষেপণ করা এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা উপগ্রহটির কক্ষপথ দ্রুত নিচে নেমে আসছে। নাসা জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় চলতি বছরের শেষের দিকেই দূরবীনটি তীব্রবেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে ছাই হয়ে যাবে।

২০২৪ সাল থেকে সূর্যভিত্তিক তীব্র সৌর কার্যকলাপের কারণে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বায়ুমণ্ডলীয় টান বেড়ে গেলে সুইফট অবজারভেটরির পতন ত্বরান্বিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৫ সালে অ্যারিজোনা-ভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিস’-এর সঙ্গে ৩০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে নাসা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুইফটকে ধাক্কা দিয়ে উঁচু কক্ষপথে ফিরিয়ে নিতে ক্যাটালিস্ট ‘লিংক’ নামক একটি মহাকাশযান তৈরি করে। লিংক-কে চলতি বছরের ৩ জুলাই মহাকাশে পাঠানো হয়।

তবে মহাকাশে উৎক্ষেপণের পরপরই ‘লিংক’ মহাকাশযানটির অ্যাটিটিউড কন্ট্রোল সিস্টেমে (দিক-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা) গুরুতর ত্রুটি দেখা দেয়। এতে যানটি অক্ষচ্যুত হয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৯ ডিগ্রি হারে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘুরতে শুরু করে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

পরে থ্রাস্টার চালু করে যানটির ঘূর্ণন কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও এটিকে দিয়ে আর উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে নাসা। শেষ পর্যন্ত মিশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যাগ করার ঘোষণা দেন নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান।

মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ বা ‘গামা-রে বার্স্ট’ এবং কৃষ্ণগহ্বরের জন্ম রহস্য উদঘাটনে সুইফট অবজারভেটরি দীর্ঘ দুই দশক ধরে অসামান্য অবদান রেখেছে। যদিও উদ্ধার অভিযানটি সফল হয়নি।

তবে নাসা ও ক্যাটালিস্ট স্পেস জানিয়েছে, মহাকাশে পরবর্তীতে উপগ্রহ মেরামত ও স্যাটেলাইট সার্ভিসিং সংক্রান্ত গবেষণায় এই মিশনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে নাসার মহাকাশ দূরবীন