logo

নিজের ‘চেহারা’ ভাড়া দিয়ে আয় ১৮ লাখ টাকা!

গালফ নিউজ
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
ফার্স্টপোস্ট
ফার্স্টপোস্ট
নিজের ‘চেহারা’ ভাড়া দিয়ে আয় ১৮ লাখ টাকা!
মানুষের বাস্তব চেহারা নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করে এআই। ছবি: সাটারস্টক

নিজের চেহারা বা মুখাবয়বের লাইসেন্স দিয়ে নতুন আয়ের পথ তৈরি করেছেন চীনের সাধারণ মানুষ। ভিডিও, বিজ্ঞাপন কিংবা গেমে ব্যবহারের জন্য নিজেদের চেহারা ‘ভাড়া’ দিচ্ছেন তারা। এ জন্য অবশ্য তাদের সরাসরি কোনো শুটিং স্পটে যেতে হচ্ছে না। রোদ-বৃষ্টি কিংবা বৈরী আবহাওয়ার ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে না। কেবল নিজেদের চেহারা ব্যবহার করেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে নানা চরিত্র। পরে এসব চরিত্র ‘ডিজিটাল অভিনেতা’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গালফ নিউজ ও ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এর পেছনে রয়েছে বাস্তব আর্থিক সম্ভাবনা। কোনো ব্যক্তির মুখের ছবি বা চেহারার বৈশিষ্ট্য এআই মডেলের মাধ্যমে ব্যবহার করে একটি চরিত্র তৈরি করা যেতে পারে। সেই চরিত্রকে নিয়ে তৈরি হতে পারে ছোট নাটক, বিজ্ঞাপন, শর্ট ভিডিও, ভিডিও গেম কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল কনটেন্ট। ফলে অভিনেতা বা মডেল হিসেবে সরাসরি শুটিংয়ে অংশ না নিয়েও নিজের মুখের আদলের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

অলাভজনক সংবাদমাধ্যম রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে মুক্তি পাওয়া ১ লাখ ২৮ হাজার মাইক্রোড্রামার ৯৫ শতাংশের বেশি নির্মাণের কোনো না কোনো পর্যায়ে এআই ব্যবহার করা হয়েছে। এআই-নির্মিত কনটেন্টে মানুষের চেহারার আদল ব্যবহারের লাইসেন্স দিতে প্ল্যাটফর্মটি প্রায় ১ হাজার ৪৩৩ টাকা থেকে প্রায় ৬৬ হাজার ৯১৬ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘চেহারা ভাড়া’র বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও এই খাতের ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে কনটেন্টের মান এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভিডিও, বিজ্ঞাপন, গেম ও অন্যান্য ভার্চুয়াল কনটেন্টের জন্য ‘চেহারা ভাড়া’র বিনিময়ে ৫০ ইউয়ান বা প্রায় ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ইউয়ান বা প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাচ্ছেন তারা।

অনলাইনে অন্যের চেহারা বিক্রি হতে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের চেহারার স্বত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন হুয়াং নামের ২৭ বছর বয়সী এক ব্যাংক কর্মকর্তা। এই সিদ্ধান্তে শুরুতেই অভাবনীয় সাফল্য পান তিনি। স্বত্ব বিক্রির মাত্র তিন দিনের মধ্যেই তার চেহারা সাতবার লাইসেন্স করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি আয় করেন প্রায় ২ হাজার ৬০০ ইউয়ান বা প্রায় ৪৮ হাজার টাকা।

তবে সুযোগের পাশাপাশি বাড়ছে ঝুঁকিও। কারণ, নিজের চেহারা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার অর্থ শুধু একটি ছবি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া নয়। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো ব্যক্তির চেহারাকে সম্পূর্ণ নতুন চরিত্র বা গল্পের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব। ফলে সেই চেহারা কোথায়, কীভাবে এবং কোন ধরনের কনটেন্টে ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সম্মতি। কোনো ব্যক্তি যদি স্পষ্টভাবে জানেন, তার চেহারা কী কাজে ব্যবহার করা হবে, কতদিন ব্যবহার করা যাবে এবং এর বিনিময়ে তিনি কী পাবেন, তাহলে আইনি ও নৈতিক দিক থেকে বিষয়টি অনেক বেশি পরিষ্কার থাকে। কিন্তু অনুমতি ছাড়া কারও ছবি বা ভিডিও থেকে তার চেহারার আদল নিয়ে এআই কনটেন্ট তৈরি হলে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের যুগে ‘ডিজিটাল পরিচয়’-এর ধারণাটিও নতুন করে ভাবতে হবে। একজন মানুষের চেহারা তার ব্যক্তিগত পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই চেহারাকে প্রযুক্তির সাহায্যে এমনভাবে ব্যবহার করা সম্ভব, যা ওই ব্যক্তি বাস্তবে কখনো করেননি। ফলে ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট কিংবা ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ক্ষতির আশঙ্কাও থাকছে।