ট্রাম্পের ঘুম ভাঙাতে ‘নারী’ নিয়োগ?

ডেইলি স্টার
ট্রাম্পের ঘুম ভাঙাতে ‘নারী’ নিয়োগ?
ট্রাম্পের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এই নারীকে নিয়ে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সরকারি কর্মকাণ্ডের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঝিমিয়ে পড়ার দৃশ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুধু ওভাল অফিসেই নয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাকে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় দেখা যাওয়ার দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা ও ঠাট্টা। ট্রাম্পের ঘুমঘুম ভাব নিয়ে এবার নেটিজেনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের কৌতুক ও গুঞ্জন।

Advertisement

সামাজিক মাধ্যমে অনেকে তার পুরোনো বক্তব্য ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে করা ব্যঙ্গের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন। বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাকে প্রায়ই ‘স্লিপি জো’ বলে বিদ্রূপ করতেন ট্রাম্প। জনসম্মুখে বাইডেনের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

তবে সময়ের পালাবদলে এবার সেই একই ধরনের উপহাসের মুখে পড়ছেন ট্রাম্প নিজেই। তার বিভিন্ন কর্মসূচিতে চোখ বন্ধ বা ঝিমিয়ে পড়ার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্লিপি ট্রাম্প’ ধরনের মন্তব্যও দেখা যাচ্ছে।

গত ১০ আগস্ট ওভাল অফিসের একটি সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে বারবার চোখ ধরে রাখতে বেগ পেতে দেখা যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন দর্শকেরা লক্ষ্য করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখনই ঢুলে পড়ছিলেন, ঠিক তখনই তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী নিজের পেটে হাত দিয়ে কিছু একটা চাপছেন এবং ট্রাম্প ঝট করে জেগে উঠছেন।

ট্রাম্পের ডান পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই নারীকে নিয়ে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ডান পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই নারীকে নিয়ে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

এরপরই নেটিজেনদের একাংশ অনুমান করতে শুরু করেন যে, ট্রাম্প ঘুমিয়ে পড়লে তাকে সতর্ক করতে বৈদ্যুতিক বোতাম চাপার জন্য ‘দ্য জ্যাপার’ নামের বিশেষ এক কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তবে ইন্টারনেটের এই মুখরোচক ষড়যন্ত্র তত্ত্বটি নাকচ করে দিয়েছেন বিশ্লেষক ও সামাজিক মাধ্যমের সচেতন ব্যবহারকারীরা। তারা যুক্তি দেখান, প্রেসিডেন্টের পেছনে দাঁড়িয়ে থেকে তার চোখের পাতা বন্ধ হওয়া বোঝা কোনো মানুষের পক্ষে অসম্ভব এবং সরাসরি ক্যামেরার সামনে এমন কোনো ডিভাইস ব্যবহারের দাবি একেবারেই অবাস্তব।

পরবর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, ট্রাম্পের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই নারী মূলত ২৭ বছর বয়সী রক্ষণশীল গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও ‘দ্য কনজারভেটর’-এর প্রতিষ্ঠাতা জেমি লি ফ্র্যাঙ্কলিন। তিনি আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে কাজ করেছেন। ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই ভিত্তিহীন গুঞ্জন নিয়ে তার বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ট্রাম্পের ঘুম ভাঙাতে ‘নারী’ নিয়োগ?