যুবককে নগ্ন ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিল ৬২ লাখ টাকা

ভিডিও কলের মাধ্যমে ‘সেক্সটর্শন’-এর ফাঁদে ফেলে এক যুবকের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৫ বছর বয়সি ওই যুবক ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলের ফাঁদে ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি খুইয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৬ টাকা
প্রতারকরা কখনও পুলিশ কর্মকর্তা, আবার কখনও ইউটিউবের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার ও সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে। প্রতারকেরা ওই যুবককে বিশ্বাস করিয়েছিল যে, একটি নগ্ন ভিডিওতে তার মুখ দেখা গেছে এবং টাকা না দিলে ভিডিওটি ভাইরাল করে দেওয়া হবে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ওই যুবকের হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল আসে। কলটি ধরতেই পর্দায় এক নগ্ন নারীকে দেখতে পান তিনি। বিষয়টি বুঝতে না পেরে দ্রুত কল কেটে নম্বরটি ব্লক করে দেন।
কিছুক্ষণ পর অন্য একটি নম্বর থেকে আবার ফোন আসে। এবার তাকে বলা হয়, তার মুখ ব্যবহার করে একটি ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই যুবককে টাকা পাঠাতেও বলা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগকারী আবারও কলটি কেটে দেন এবং নম্বরটি ব্লক করে দেন। ফোনালাপের সময় তিনি একটি ভিডিওও পেয়েছিলেন। সেটি পরে ডিলিটও করে ফেলেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতারকেরা অজ্ঞাত আরেকটি নম্বর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফোনকারী নিজেকে সঞ্জয় অরোরা পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি দিল্লি সাইবার ক্রাইম শাখার কর্মকর্তা।
ফোনকারী নগ্ন ভিডিওর কথা বলার পাশাপাশি পুলিশি ব্যবস্থার হুমকি দিলে যুবকটি ভয় পেয়ে যান। তাকে বলা হয়, নগ্ন ভিডিওসংক্রান্ত অপরাধের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এবং আহমেদাবাদ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে ইউটিউবের একজন তথাকথিত প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে একটি ‘যথাযথ প্রক্রিয়া’ সম্পন্ন করতে তাকে বলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে ওই ব্যক্তি তাকে আরেক প্রতারকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে ইউটিউবের কর্মকর্তা বলে দাবি করেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, তিনি অভিযোগকারীকে জানান, তার নামে দুটি নগ্ন ভিডিও ফাঁস হয়েছে। সেগুলো মুছে ফেলতে ৭১ হাজার ২৫০ রুপি দিতে হবে। পুলিশি ব্যবস্থা ও কথিত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় তিনি টাকা দিতে রাজি হন। পরে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তার কাছে আরও টাকা দাবি করে চক্রটি।
অভিযোগকারী বারবার তাদের দাবি মেনে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতারকদের দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপ পাঠান। তবে টাকা পাওয়ার পরও প্রতারকেরা তার কাছে আরও টাকা দাবি করতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে সাইবার ক্রাইম শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা টাকা পাঠানো ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খতিয়ে দেখছেন।
