logo

ভারতের শেয়ারবাজারে ধস

এনডিটিভি
এনডিটিভি
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ভারতের শেয়ারবাজারে ধস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী। তবে কয়েক দিন ধরে দেশটির শেয়ার বাজারের সূচক নিম্নমুখী রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভয়াবহ ধস নামে ভারতের শেয়ারবাজারে। এদিন সকালে বাজার খোলার পরপরই প্রধান সূচকগুলো পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। শুরুর দিকেই বিএসই সেনসেক্স ১৫০ পয়েন্ট ও নিফটি ৭০ পয়েন্ট নিচে নেমে যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর ২টা ১০ মিনিটের হিসাব অনুযায়ী, সেনসেক্স ১ হাজার ১৫১ পয়েন্ট বা ১.৫৯ শতাংশ কমে ৭১ হাজার ৪৭৭-এ নেমে এসেছে। অন্যদিকে নিফটি৫০ ৩৯৫ পয়েন্ট বা ১.৭৫ শতাংশ কমে ২২ হাজার ২০৯-এ অবস্থান করছে। দুপুর ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ বিএসই সেনসেক্সের পতন ১ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। সূচকটি ১ হাজার ৭০ পয়েন্ট এবং নিফটি ৩৬৫ পয়েন্ট পড়ে যায়।

এর আগে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে ৩৪২ পয়েন্ট কমে ২২ হাজার ২৬০ দশমিক ৭০ পয়েন্টে লেনদেন হচ্ছিল নিফটি-৫০ সূচক। এই দরপতনের ফলে বিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজার মূলধন থেকে প্রায় ১০.৯৩ লাখ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের দাবি, বুধবার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) ঋণনীতি পর্যালোচনাই এই পতনের মূল কারণ। গতকালও বিএসই সেনসেক্স সূচক কিছুটা কমেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখার পর বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবারের বাজারে এরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

ঋণনীতি ঘোষণায় সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে আরবিআই। চলতি অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ করেছে তারা। এর ওপর আগামী দিনে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে আরবিআইয়ের গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রর বার্তা থেকে। তিনি জানিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আপাতত সুদের হার না কমানোর অবস্থান নিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি, বৃহস্পতিবারের বাজারে ধস নামার অন্যতম কারণ এটি।

একাংশের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলে নেওয়াও সূচকের এতটা পতনের জন্য দায়ী।

পরিসংখ্যান বলছে, বৃহস্পতিবার এখন পর্যন্ত বিএসইতে (বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ) বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার শেয়ারসম্পদ মুছে গেছে। এতে বাজারের মোট শেয়ারমূল্য কমে ৪৬৩ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। দুপুর পর্যন্ত পাওয়া খবরে আইটিসি, আদানি পোর্টস, ইন্ডিগো এবং রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সেনসেক্সের পতনের পেছনে এসব শেয়ারের দরপতনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের অনেকে অবশ্য বলছেন, আরবিআই চলতি অর্থবছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ করায় বাজারে আরও বড় পতন ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। টেক মহীন্দ্রা, এইচসিএল টেকনোলজিস, ইনফোসিস ও টিসিএসের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও বাড়ছে। এখন লেনদেন শেষে সূচক কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা।