পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া, আইএইএর উদ্বেগ

বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রাগার আরও শক্তিশালী করছে উত্তর কোরিয়া। অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সক্ষম এমন নতুন স্থাপনা নির্মাণের তথ্য প্রকাশের পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। বর্তমানে মজুত থাকা সেন্ট্রিফিউজ দিয়ে বছরে অতিরিক্ত তিন থেকে চারটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম পিয়ংইয়ং।
জাতিসংঘের এই পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের এমন তৎপরতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র ‘ইয়ংবিয়ন’-এ অবস্থিত নতুন ভবনটিতে ২৮টি পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড রাখা সম্ভব। এটি মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
স্যাটেলাইট চিত্র ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির বিশ্লেষণ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শাসকগোষ্ঠী রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ‘কাংসন’-এ অবস্থিত তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কার্যক্রমও সম্প্রসারিত করেছে।
২০০৯ সালে উত্তর কোরিয়া থেকে বহিষ্কৃত হওয়া আইএএইএ পরিদর্শকরা নির্মাণকালীন স্যাটেলাইট চিত্রের সঙ্গে গত জুন মাসে দেশটির নেতা কিম জং-উনের সফরকালীন ছবির তুলনা করে ইয়ংবিয়নের ভবনটিকে দ্বিতীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে কিম জং-উন দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র-উপযোগী পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এ সময় তিনি দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।
জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের বিশ্লেষণের বরাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম চোসুন ডেইলি জানিয়েছে, ইয়ংবিয়ন স্থাপনায় থাকা ৪ হাজার ৫৯২টি সেন্ট্রিফিউজ বিশিষ্ট ক্যাসকেড থেকে বছরে প্রায় ৮৫ কেজি অস্ত্র-উপযোগী উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন সম্ভব, যা দিয়ে প্রতি বছর অতিরিক্ত তিন থেকে চারটি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করা যাবে।
আইএএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এক বিবৃতিতে কাংসন ও ইয়ংবিয়নের এই তৎপরতাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে। ২০১৭ সালে সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর থেকে বৈধ পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে দ্রুত অগ্রগতি সাধন করে চলেছে দেশটি।
