logo

এবার জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন

রয়টার্স
রয়টার্স
এবার জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন
২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট জাকার্তায় পুলিশের বাধায় একজন বিক্ষোভকারী নারী। ছবি: এএফপি

আবারও জেন-জি আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী জাকার্তায় সাড়ে ৯ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার দুই বছর পূর্ণ হতেই প্রাবোও সুবিয়ান্তোর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমে আসার ইঙ্গিতের মধ্যে দেশজুড়ে বিক্ষোভে নামছেন নাগরিকেরা।

জাকার্তা পুলিশের মুখপাত্র বুদি হারমান্তো সাংবাদিকদের জানান, অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থীরা জানান, সাম্প্রতিক দাবানল ও শেয়ারবাজারের ধসের প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভ করবেন। শেয়ারবাজারের এই বিপর্যয় এবং ইন্দোনেশীয় রুপিয়ার দরপতন, দুটিকেই ‘জাতীয় অর্থনীতির ভঙ্গুরতার’ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

বিক্ষোভে ঠিক কতজন শিক্ষার্থী অংশ নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মঙ্গলবার পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস জাকার্তার একটি প্রধান স্মৃতিস্তম্ভে ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। এতে লেখা ছিল, ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করুন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমান।’

অবসরপ্রাপ্ত এই জেনারেল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে এখন জনগণ, ব্যবসায়ী মহল ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন তিনি। তার উচ্চাভিলাষী ও জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচিগুলোর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরা।

সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের (এসএমআরসি) জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে প্রাবোওর জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত নভেম্বরে তার জনপ্রিয়তার হার ছিল ৮১ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি মাসে তা কমে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এখন পর্যন্ত তার সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তার হার।

২০২৫ সালের আগস্টে ইন্দোনেশিয়ায় বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। সে সময় শত শত মানুষকে আটক করা হয়। পুলিশের হাতে এক মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালক নিহত হওয়ার ঘটনায় ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই অস্থিরতায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে।