
ইউরোপের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার হুমকির পর নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করছে গ্রিস। এর অংশ হিসেবে কারপাথোস দ্বীপ থেকে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রিট দ্বীপের সৌদা নৌঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্রিসের দৈনিক কাথিমেরিনি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হুমকির প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেয় গ্রিস।
গত সপ্তাহ থেকেই গ্রিসের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সম্ভাব্য হুমকির মাত্রা পর্যালোচনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
কাথিমেরিনি জানায়, প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থাটি এর সরঞ্জাম ও সামরিক সদস্যসহ ভোরে কারপাথোস থেকে রওনা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি ক্রিটের সৌদা এলাকার বিস্তৃত অঞ্চলে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কারপাথোসে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল চলতি বছরের মার্চে। সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে এথেন্সের সব খাতকে সুরক্ষিত রাখার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেটি সেখানে রাখা হয়েছিল।
ইরানের হাতে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে গ্রিসে। মিত্র দেশগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি।
এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে সৌদি আরবের ইয়ানবুতে মোতায়েন থাকা গ্রিসের আরেকটি প্যাট্রিয়ট ইউনিটের ভবিষ্যৎ নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ওই ইউনিটটি ইয়ানবুতে মোতায়েন রয়েছে। ইরানের পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে পশ্চিম সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় ইউনিটটি কাজ করেছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই গ্রিক প্যাট্রিয়ট ইউনিটের মেয়াদ বাড়ানো হবে, নাকি সেটিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে—তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। কাথিমেরিনি জানিয়েছে, ইউনিটটি আগেভাগেই গ্রিসে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাই বেশি।

