logo

ট্রাম্পের অনুরোধে মার্কিন বন্দিকে মুক্তি দিলেন পুতিন

বিবিসি
বিবিসি
ট্রাম্পের অনুরোধে মার্কিন বন্দিকে মুক্তি দিলেন পুতিন
চার বছর ধরে রাশিয়ায় বন্দি ছিলেন মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ড। ছবি: সিএনএন থেকে নেওয়া

ইউক্রেনের পক্ষে লড়াই করার অভিযোগে চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ায় বন্দি ছিলেন মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ড (৭৪)। অবশেষে সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সফরের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ইউক্রেনে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে লড়াই করার অভিযোগে তাকে আটক রাখা হয়েছিল। হাবার্ডের মুক্তির খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পুতিন ‘মানবিক কারণে’ হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুতিন জানান, হাবার্ডকে সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকভো বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হাবার্ডের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং চিকিৎসার জন্য তাকে টেক্সাসে নেওয়া হতে পারে।

রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মিশিগানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাবার্ডকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘অন্যায়ভাবে আটক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

স্টিভ উইটকফ হাবার্ডের মুক্তির জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হাবার্ডের এই মুক্তি মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি সরাসরি যে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তারই পরিপ্রেক্ষিতে হাবার্ড কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন। হাবার্ড শিগগিরই পরিবারের কাছে পৌঁছাবেন।

বুধবার সকালে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ছবি: বিবিসি
বুধবার সকালে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ছবি: বিবিসি

ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, হাবার্ডের এই মুক্তির জন্য রাশিয়ার সঙ্গে কোনো বন্দিবিনিময়ের (সোয়াপ) প্রয়োজন পড়েনি; বরং তার (ট্রাম্পের) প্রতি সম্মান জানিয়েই রাশিয়া এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে ট্রাম্প সাবেক বাইডেন প্রশাসনের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, ক্রেমলিনের সঙ্গে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি করতে না পারায় বাইডেন প্রশাসনের আমলে হাবার্ড মুক্তি পাননি, অথচ তার আরও অনেক আগেই পরিবারের কাছে ফেরা উচিত ছিল।

ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত হাবার্ড ২০১৪ সালে পূর্ব ইউক্রেনের ইজিয়াম শহরে বসবাস শুরু করেন। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনালগ্নে শহরটি দখল করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ান প্রসিকিউটরদের দাবি, হাবার্ড মাসে প্রায় এক হাজার ডলারের চুক্তিতে ইজিয়ামে যুদ্ধ করেছিলেন। তবে তার বোন প্যাট্রিসিয়া হাবার্ড ফক্স এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

হাবার্ড মুক্ত হলেও এখনও বহু মার্কিন নাগরিক রাশিয়ার কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

এর আগে গত আগস্টে গুরুতর অসুস্থ মেরিন ভেটেরান রবার্ট গিলম্যানকে মানবিক কারণে মুক্তি দেয় রাশিয়া। তবে আর্মেনীয় বংশোদ্ভূত আন্দ্রে খাচাতুরিয়ান, টেক্সাসের ডেভিড বার্নস, আলেকজান্ডার আন্তোনভ, ওলগা জেজলার এবং মার্কিন নেভি ভেটেরান চাক জিমারম্যানের মতো অনেক আমেরিকান এখনো অন্যায় অভিযোগে রাশিয়ার কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র আশা প্রকাশ করে বলেন, হাবার্ড ও গিলম্যানের এই মুক্তি রাশিয়ায় অন্যায়ভাবে আটকে থাকা অন্য মার্কিনদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করবে।