logo

মাটিতে ২ হাজার অন্তর্বাস পুঁতে যে ফলাফল পেলেন বিজ্ঞানীরা

এনডিটিভি
এনডিটিভি
মাটিতে ২ হাজার অন্তর্বাস পুঁতে যে ফলাফল পেলেন বিজ্ঞানীরা
এই প্রকল্পে প্রায় এক হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। ছবি: এনডিটিভি

সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা মাটির নিচে কতটা প্রাণবৈচিত্র্য রয়েছে, তা বোঝার জন্য অদ্ভুত এক পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন স্থানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল ২ হাজারের বেশি সুতির অন্তর্বাস ও ১২ হাজার টি-ব্যাগ। এর মাধ্যমে মাটির জৈবিক সক্রিয়তা পরিমাপ করা হয়েছে।

Advertisement

২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশটির কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোস্কোপ যৌথভাবে ‘প্রুফ বাই আন্ডারপ্যান্টস’ নামে একটি নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্প শুরু করে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল মাটির স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা।

প্রকল্পে প্রায় এক হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। সুইজারল্যান্ডের প্রায় এক হাজার স্থানে তারা ২ হাজারের বেশি সুতির অন্তর্বাস ও ১২ হাজার টি-ব্যাগ মাটির নিচে পুঁতে রাখেন। দুই মাস পর সেগুলো তুলে ছবি তোলা হয় এবং মাটির নমুনার সঙ্গে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

গবেষকেরা দেখতে পান, বিভিন্ন স্থানে পুঁতে রাখা সুতির অন্তর্বাস পচে যাওয়ার গতি এক রকম ছিল না। কোথাও দ্রুত, আবার কোথাও ধীরে কাপড়ের অবক্ষয় ঘটেছে।

এর কারণ হিসেবে গবেষকেরা মাটির নিচে থাকা জীবের সক্রিয়তাকে চিহ্নিত করেছেন। মাটিতে থাকা কেঁচো, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন জীব যত বেশি সক্রিয় ছিল, সুতির কাপড় তত দ্রুত ভেঙে গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তিগত বাগানের মাটিতে অন্তর্বাস সবচেয়ে দ্রুত পচেছে। এসব মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণও বেশি ছিল। ফলে কেঁচো, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়াসহ মাটির অন্যান্য জীবের জন্য সেখানে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

অন্যদিকে, ঘাসে ঢাকা লনে মাটির জীবের সক্রিয়তা সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। কৃষিজমি ও তৃণভূমির অবস্থান ছিল বাগান ও লনের মাঝামাঝি।

গবেষকেরা বলছেন, মাটির স্বাস্থ্য ও সেখানে থাকা জীবের সক্রিয়তার ওপর জমি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার বড় প্রভাব রয়েছে। গবেষণায় অন্তর্বাস পচনের গতির ক্ষেত্রে জমির ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে উঠে এসেছে।

মাটির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মাটিতে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ মাটির জীবের সক্রিয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

তবে অন্তর্বাস দ্রুত পচে গেলেই যে মাটি সব দিক থেকে ভালো—এমনটা নয়। কৃষিজমিতে দ্রুত পচন উর্বরতা ও পুষ্টির প্রাচুর্যের ইঙ্গিত হতে পারে। কিন্তু প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের মতো পরিবেশে অতিরিক্ত পুষ্টি প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিতও দিতে পারে। বাগানের ক্ষেত্রেও খুব দ্রুত পচন অতিরিক্ত সার ব্যবহারের সংকেত হতে পারে।

মাটির তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাও এর ওপর প্রভাব ফেলে। মাটি অতিরিক্ত ঠান্ডা বা শুষ্ক হয়ে গেলে মাটির জীবের সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

‘অন্তর্বাস সূচক’ তৈরির প্রস্তাব

গবেষকেরা মনে করছেন, সুতির অন্তর্বাস মাটির জৈবিক সক্রিয়তা ও উর্বরতার তুলনামূলক চিত্র বোঝার একটি সহজ পদ্ধতি হতে পারে। এ ধারণা থেকে তারা ‘অন্তর্বাস সূচক’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষও মাটির ভেতরের জৈবিক কার্যক্রম সহজে বুঝতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যকর মাটি সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হবেন।

প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নাগরিকদের অংশগ্রহণ। প্রায় এক হাজার স্থানে তথ্য সংগ্রহের ফলে সুইজারল্যান্ডের মাটির জীববৈচিত্র্য নিয়ে একটি বিস্তৃত তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে। গবেষণাপত্রটির সহলেখক হিসেবে প্রায় ২৪০ জন নাগরিক বিজ্ঞানীর নামও রয়েছে।

অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের তাদের মাটির পরীক্ষার ফলাফল, মূল্যায়ন ও মাটি আরও টেকসইভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।