logo

জাপানে একের পর এক সাইবার হামলা, কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য ফাঁস

জাপানে একের পর এক সাইবার হামলা, কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য ফাঁস
পেক্লাউড হোল্ডিংসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে ৭ কোটি ৭০ লাখ তথ্য হাতিয়েছে হ্যাকাররা। ছবি: গেটি ইমেজেস

বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগের মধ্যে পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনীতির দেশ জাপানে একের পর এক শীর্ষ কোম্পানিতে ভয়াবহ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য ফাঁস (ডেটা লিক) হয়েছে। হ্যাকারদের অননুমোদিত প্রবেশের কারণে হাতছাড়া হয়েছে দেশটির সাড়ে আট কোটিরও বেশি গ্রাহক, কর্মী ও চাকরিপ্রার্থীর অত্যন্ত সংবদেনশীল ব্যক্তিগত তথ্য।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) টোকিওভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠান পেক্লাউড হোল্ডিংসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমস। ফাঁস হওয়ার তথ্যের মধ্যে রয়েছে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা ও ইমেইল।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, হ্যাকাররা তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত ‘আরারা মেসেজ’ নামের ইমেইল সেবার সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ইমেইল ঠিকানা হাতিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনার ফলে সেবাটি ব্যবহারকারী প্রায় ৩৮০টি করপোরেট গ্রাহকের নিবন্ধিত নাম, ফোন নম্বর ও ঠিকানাসহ ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে।

গত অক্টোবরের শেষ দিকে ঘটে যাওয়া এই সাইবার হামলার পর হ্যাকাররা একটি ক্রেডিট কার্ড প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিয়ে প্রায় ৭১ লাখ ৩০ হাজার সন্দেহজনক ইমেইল পাঠায়। সোমবার গ্রাহকদের আরারা বা এর সহযোগী করপোরেট গ্রাহকদের পরিচয়ে আসা ইমেইল ও ফোন কলের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে টোকিওভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

প্রখ্যাত পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সানটোরি হোল্ডিংস জানিয়েছে, তাদের ব্যবহৃত একটি তৃতীয় পক্ষের ক্লাউড সেবায় হ্যাকারদের প্রবেশের ফলে প্রায় এক লাখ কর্মী ও গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হয়েছে। এর মধ্যে সানটোরি গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯০ হাজার কর্মীর নাম ও ইমেইল ঠিকানা এবং চলতি বছর স্নাতক নিয়োগ কর্মসূচিতে আবেদন করা ৭ হাজার ১৭৩ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম-ফোন নম্বর রয়েছে।

অন্যদের মধ্যে ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘নোজিমা’র ই-কমার্স ও স্মার্টফোন কেনাবেচার সাইট থেকে প্রায় ৭০ লাখ গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও ইমেইল তথ্য ফাঁস হয়েছে। প্রসাধনী ও সৌন্দর্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আইস্টাইল’ জানিয়েছে, তাদের ‘@cosme’ ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত প্রায় ৩০ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি ত্বক ও চুলের ধরনসংক্রান্ত তথ্যও হ্যাকারদের হাতে চলে গেছে।

তবে আক্রান্ত কোনো কোম্পানি থেকেই গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ফাঁস হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ধারাবাহিক এসব সাইবার হামলার পর করপোরেট নিরাপত্তাব্যবস্থার চরম ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে গত ৫ আগস্ট জিএমও ইন্টারনেটের এক গ্রাহকের ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট সার্ভারে অননুমোদিত অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটি ২০ অক্টোবরের আগে তা শনাক্ত করতে পারেনি।

এ ঘটনায় সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষমা চেয়েছেন জিএমও ইন্টারনেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাতোশি কুমাগাই। তিনি স্বীকার করেন, ২০২৪ সালের এপ্রিলে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া নিরাপত্তা সতর্কবার্তাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং সাইবার হামলা মোকাবিলায় তাদের পদক্ষেপে ঘাটতি ছিল।

সৈয়দ মুহাম্মদ আজম

সম্পাদনা

সৈয়দ মুহাম্মদ আজম

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট