logo

থাইল্যান্ড ভেঙে নতুন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা, বিশ্বজুড়ে হইচই!

এএফপি
এএফপি
থাইল্যান্ড ভেঙে নতুন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা, বিশ্বজুড়ে হইচই!
থাইল্যান্ডের বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের মুখপাত্র নিকমতুল্লাহ সেরি (বামে) ও দক্ষিণাঞ্চল মালয়-মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

দীর্ঘদিন ধরে চলা থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে প্রধান মালয়-মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)।

স্বাধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এই ঘোষণা থাইল্যান্ডের সীমানা পেরিয়ে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিআরএনের শান্তি আলোচনার প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি জানান, প্রায় দুই দশক ধরে চলা সশস্ত্র বিদ্রোহে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির পরও তাদের স্বাধীনতার দাবি অপরিবর্তিত রয়েছে।

কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে সেরি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই সংগ্রাম কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈষম্যের অবসানে আমাদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া অবধি আমরা লড়াই অব্যাহত রাখব।’

থাইল্যান্ডের মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী দক্ষিণ অঞ্চলের চারটি প্রদেশে ১৯৬০-এর দশক থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রাম চালিয়ে আসছে বিআরএন। ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, এলাকাটি একসময় স্বাধীন ‘পাতানি সালতানাতের’ অংশ ছিল। পরে ১৯০০-এর দশকের শুরুতে থাইল্যান্ড (তৎকালীন সিয়াম) দখল করে নেয়। ২০০৪ সাল থেকে এই অঞ্চলে অস্থিরতা ও সহিংসতা নতুন মাত্রা পায়।

স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্যানুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংঘর্ষে সন্ত্রাসী, থাই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষসহ সাত হাজারের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ২০০৫ সাল থেকে এলাকাটি জরুরি সামরিক আইনের আওতায় রয়েছে।

সহিংসতা নিরসনে ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় বিআরএনের সঙ্গে থাই সরকারের শান্তি আলোচনা চলে আসছে। তবে গত জুলাইয়ে বিআরএনের সন্দেহভাজন হামলায় পাঁচজন থাই সৈন্য নিহত হওয়ার পর ব্যাংকক উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক আলোচনা স্থগিত করে।

এ প্রসঙ্গে বিআরএন প্রতিনিধি নিকমাতুল্লাহ জানান, তারা থাই সরকারের কাছে শক্তি বা ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন ইসলামিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা শরিয়া আইন ও বিশেষ আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

থাইল্যান্ড অবশ্য বিআরএনের স্বাধীনতা বা দেশ ভাগের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্যাংককের প্রধান আলোচক থানুত সুবর্ণানন্দ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে থাইল্যান্ড ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে চেকপয়েন্ট কমানো এবং যুদ্ধবিরতি অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে, থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাময়িক আলোচনা স্থগিত থাকলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামাজিক উন্নয়ন ও শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ নরদিন এএফপি-কে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, শান্তি আলোচনার জন্য নতুন একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। কুয়ালালামপুর থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ আইনকে সম্মান করে এবং কোনো সশস্ত্র বা সহিংস গোষ্ঠীকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।

বিআরএন মুখপাত্রও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে আগামী অক্টোবরে থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিআরএন ‘গোপন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায়’ বসতে পারে।