logo

আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতাসহ চার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

টাইমস অব ইন্ডিয়া
টাইমস অব ইন্ডিয়া
আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতাসহ চার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
কাবুলের একটি রাস্তায় আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবি: এএফপি

আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা, প্রধান বিচারপতি আবদুল হাকিম হাক্কানিসহ তালেবানের চার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। নারী ও কিশোরীদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবে লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়নের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) আইসিসি আখুন্দজাদা ও হাক্কানির বিরুদ্ধে আগে জারি করা পরোয়ানার বিস্তারিত প্রকাশ করে। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী হাবিবুল্লাহ আগা এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রী নেদা মোহাম্মদ নাদিমের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারির বিষয়টি সামনে আনে আদালত।

আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, আখুন্দজাদা ও হাক্কানির বিরুদ্ধে গত বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তবে সে সময় বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি।

আদালতের অভিযোগ, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে তাদের নীতি ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নারী, কিশোরী এবং এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের সদস্যদের লিঙ্গ পরিচয় ও প্রকাশের কারণে নিপীড়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও কিশোরীদের সমর্থনকারী বা তাদের ‘মিত্র’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদেরও নিপীড়নের শিকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইসিসির বিচারকদের মতে, অভিযুক্ত চার নেতা তালেবানের হয়ে এমন নীতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন, যার ফলে আফগান বেসামরিক জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে হত্যা, কারাবন্দি করা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গুমের মতো অপরাধের অভিযোগও রয়েছে।

নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ

২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান নারীদের চাকরি, অধিকাংশ জনসমাগমস্থলে প্রবেশ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির পর শিক্ষার সুযোগ সীমিত বা বন্ধ করে দেয়। নারীদের পোশাক ও চলাচলের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এমনকি গত বছর আখুন্দজাদা এমন ভবন নির্মাণেও নিষেধাজ্ঞা দেন, যেসব ভবনের জানালা দিয়ে নারীদের বসা বা দাঁড়ানোর স্থান দেখা যেতে পারে। বাড়ির বাইরে বের হলে নারীদের পুরো শরীর ঢেকে রাখার পাশাপাশি দীর্ঘ ভ্রমণে পুরুষ স্বজন সঙ্গে রাখার নিয়মও চালু করা হয়েছে।

পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম

আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই। ফলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও অভিযুক্ত তালেবান নেতাদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ তালেবান সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।

গত বছরের জানুয়ারিতে আখুন্দজাদা ও হাক্কানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, আফগান নারী, কিশোরী এবং এলজিবিটিকিউআই+ সম্প্রদায়ের সদস্যরা তালেবানের অধীনে ধারাবাহিক ও ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।

আইসিসির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান তালেবানের

তবে আইসিসির এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্তৃত্ব স্বীকার করে না।

তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তান ইসলামী শরিয়াহ ও দেশটির নিজস্ব আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি দায়বদ্ধ, আইসিসির মতো আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের প্রতি নয়।

এদিকে আফগানিস্তানে নারী ও কিশোরীদের ওপর তালেবানের কথিত পদ্ধতিগত নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে তালেবানের লিঙ্গভিত্তিক নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।