তারেক রহমানের সফর নিয়ে ভারতীয় দুই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ থাকলেও বাংলাদেশ এখনও তার সফর নিশ্চিত করেনি।
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সম্প্রতি দিল্লিতে তার বিতর্কিত সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ঘিরে ঢাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না। গত ১০ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৪৫ মিনিটব্যাপী এক বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে তিনি সরাসরি এই কড়া বার্তা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অগ্রগতির ওপরই বাংলাদেশ-ভারতের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি ‘পঞ্চাশ-পঞ্চাশ ভাগ’ নির্ভর করছে। এই শর্ত পূরণ না হলে সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনেও তিনি অংশ না-ও নিতে পারেন। তবে ওই বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের জানান, দুদেশের আলোচনায় সমাধান করা সম্ভব নয়, এমন কোনো সমস্যা নেই।
অন্যদিকে, ভারতের আরেক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ঢাকা ও দিল্লির একাধিক সূত্রের বরাতে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সফরটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর এবং দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদিনের এই সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছাড়াও বাণিজ্য, সংযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তুতি ইতিপূর্বে দুই রাজধানীতেই শুরু হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন অবধি তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বিশ্বের প্রধান উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্য এই জোটের সদস্য নয়। তবে ব্রিকসের নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত সদস্যদেশের বাইরেও অন্য দেশগুলোর নেতাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানাতে পারে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গুম ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এরপর শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে দিল্লিকে আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার অনুরোধ করে ঢাকা। অনুরোধ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দিল্লিও। তবে দিল্লির বক্তব্য হলো, অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও আইনগত বিষয় বিবেচনা করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। জুলাইয়েও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিল।

