পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলের সভা ও কার্যালয়ে ব্যাপক হামলার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলের কণ্ঠ দমনে তীব্র সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সিপিআইএমের সভা, দলীয় কার্যালয় ও কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে সিপিআইএম। অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে বিজেপি।
সিপিআইএমের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় বণিক মোড়ে তাদের একটি সভামঞ্চে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় চেয়ার ও ব্যানার নষ্ট করার পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর ছবিও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।
সিপিআইএম নেত্রী দীপ্সিতা ধরকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। দলটির দাবি, ঘটনায় বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। হামলার সময় পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সিপিআইএম।
দলটির আরও অভিযোগ, ভাঙচুরের পর কয়েকজন বিজেপি কর্মী পতাকা নিয়ে সভাস্থলে উঠে স্লোগান দেন। এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে সিপিআইএম কর্মীদের ওপর হামলা হয়। পরে পুলিশের সঙ্গে বাম কর্মীদেরও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সিপিআইএমের দাবি, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না করে তাদের কয়েকজন কর্মী-সমর্থককেই পুলিশ আটক করে।
দীপ্সিতা ধর আরও দাবি করেন, হামলায় দুই নারী কর্মী লাঞ্ছিত হয়েছেন। পাশাপাশি এক ছাত্র কর্মীর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে মাইক সরবরাহকারীকেও ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
হাবড়াতেও একই ধরনের হামলার অভিযোগ করেছে সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠন। দলটির দাবি, হাবরা এক নম্বর রেলগেটের কাছে পুলিশের অনুমতি নিয়ে সভা চলার সময় একদল ব্যক্তি সেখানে হামলা চালায়। এ ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হামলাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
এরপর রাতে দত্তপুকুর এলাকায় সিপিআইএমের এরিয়া কমিটির কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। দলটির দাবি, কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুরের পর ভেতরে থাকা বিভিন্ন নথিপত্র বাইরে এনে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সিপিআইএমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত পাঁচটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার জন্য বিজেপি-সমর্থিত ব্যক্তিদের দায়ী করেছে দলটি। তবে বিজেপি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।
সিপিআইএমের দাবি, সাম্প্রতিক সময়েও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাদের দলীয় কার্যালয়, কর্মী ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। জলপাইগুড়ি, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগও করেছে তারা। এসব ঘটনার ক্ষেত্রেও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও দলটি তা অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিআইএম। অন্যদিকে বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
