যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, ঐতিহ্যবাহী নামফলক ভাঙচুর

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দুই বিপরীতমুখী ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী শতদল ফলক। নন্দলাল বসুর তৈরি এই ঐতিহাসিক ফলকটি ভেঙে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরএসএসের ছাত্রসংগঠন এবিভিপির বিরুদ্ধে।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার (২০ আহগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে। গেটের বাইরে জাতীয় পতাকা ও গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন এবিভিপির সমর্থকেরা। নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট বন্ধ রেখে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
অন্যদিকে, গেটের ভেতরের দিকে লাল পতাকা হাতে নিয়ে অবস্থান করছিলেন এআইডিএসওর ছাত্ররা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় এবিভিপির সমর্থকেরা জোরপূর্বক গেট বেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং গেটে তীব্র ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে, সেই ধাক্কাধাক্কির মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে থাকা নন্দলাল বসুর স্মৃতিবিজড়িত ফলকে লাথি মারা হয়। ফলকটি ভেঙে মাটিতে পড়ে যায় এবং পরে তা ছুড়ে ফেলে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এদের শিক্ষার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। ঐতিহ্যবাহী একটা জিনিসকে এভাবে ভেঙে ফেলা খুব লজ্জাজনক।’
কবি অংশুমান কর বলেন, যারা এই কাজ করেছেন, তাদের ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে কোনো ধারণাই নেই। নন্দলাল বসুর তৈরি এমব্লেম ভেঙে ফেলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
সাহিত্যিক তিলোত্তমা মজুমদারও ঘটনাটিকে অপসংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। তাদের এক প্রতিনিধির দাবি, ক্যাম্পাসে চলা ভারতবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়। বামপন্থীরা তাদের পতাকা ছিঁড়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ঐতিহাসিক এই ফলক ভাঙচুরের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
