logo

ফের আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, গাড়ির চাকা পাংচার করল কর্মীরা

এনডিটিভি
এনডিটিভি
ফের আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, গাড়ির চাকা পাংচার করল কর্মীরা
পুলিশ রাহুল গান্ধীকে আটক করলে সড়কে শুয়ে পড়েন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন ভারতের বিরোধী দলগুলোর নেতারা। বুধবার (৭ অক্টোবর) নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের কয়েকজন নেতাকে আটক করে পুলিশ।

আটকের পর বিক্ষোভরত রাজনৈতিক নেতাদের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু সেই চেষ্টা ভণ্ডুল করে দেন ঘটনাস্থলে থাকা অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা। কংগ্রেসের দাবি, কংগ্রেসের দাবি, তাদের নেতাকর্মীরা আটক নেতাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি বাসের টায়ার ফুটো করে দেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্য দিল্লির সাগর রত্ন রেস্তোরাঁয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হওয়ার পর বিরোধী দলের সাংসদেরা বাসে করে যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন। সেখানে যাওয়ার পথে পুলিশ বাসগুলো থামিয়ে দেয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য আগে থেকে অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন।

পুলিশ নেতাদের আটক করে বাসে তোলার পর ইন্ডিয়া জোটের কয়েকজন নেতা বাস থেকে নেমে রাস্তায় বসে পড়েন। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও পুলিশের সরে যাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে রাস্তায় অবস্থান নেন। প্রিয়াঙ্কা একপর্যায়ে রাস্তায় শুয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘সাংসদদের সঙ্গে এভাবেই ব্যবহার করা হয়? এটা নজিরবিহীন। আমরা এখান থেকে সরব না।’

পরে পুলিশ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সরিয়ে বাসে তুলে নেয়। বুধবারের এই কর্মসূচির আগে বিরোধী সাংসদেরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে তাদের অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।

মধ্যাহ্নভোজের পর রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমি গতকাল যেমনটা বলেছিলাম, প্রায় ৩০০ জন সাংসদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা বলেছেন যে আমরা সেখানে কোনো বিক্ষোভ করতে পারব না। তাই আজ আমাদের পরিকল্পনা হলো নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে গিয়ে আবারও একসঙ্গে বসা এবং দেশকে জানানো যে, আমাদের কাছে জ্ঞানেশ কুমার দেশের বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোদিজি, অমিত শাহজি, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন।’

এর আগে মঙ্গলবারের অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ৪৫টি এফআইআর আছে। আমার লক্ষ্য ১০০।’

মঙ্গলবার অনুমতি ছাড়া আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ এবং সেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবস্থান করার ঘটনায় বুধবার রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবারের ওই কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে যেতে বাধা দেওয়ার পর তারা আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করে অবস্থান নেন। প্রায় আট ঘণ্টা পর পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে আটক করে।

রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে এফআইআর প্রসঙ্গে কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল বলেন, ‘গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। সারা দেশে শত শত মামলা দায়ের করা আছে।’

কংগ্রেস সাংসদ জোতিমণি বলেন, ‘আমরা এখানে মধ্যাহ্নভোজ করতে এসেছি, প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। বিরোধীদলীয় নেতাকে যেভাবে অপরাধীর মতো টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। কোনো এফআইআর নিয়ে আমরা চিন্তিত নই।’

বিরোধী দলগুলোর এই কর্মসূচির মূল দাবি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। এসআইআর নিয়ে বিরোধীরা অনিয়মের অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ গ্রহণ করেনি।