logo

বন্যায় তলিয়ে গেছে থাইল্যান্ডের রাজধানী, ৫০ জেলাকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা

রয়টার্স
রয়টার্স
বন্যায় তলিয়ে গেছে থাইল্যান্ডের রাজধানী, ৫০ জেলাকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে মানুষ। ছবি: রয়টার্স

ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ব্যাপক বন্যার দেখা দেওয়ায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন শহরটির গভর্নর চাদচার্ট সিট্টিপুন্ট। দেশটির সব (৫০) জেলাকেই দুযোর্গপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণার পাশাপাশি দেশটির আবহাওয়া সংস্থা সপ্তাহজুড়ে বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বা ১২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্লাবিত হয়েছে। আংশিক ডুবে গেছে বহু গাড়ি। কোথাও কোথাও বাসিন্দাদের কোমরসমান পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে।

ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিট্টিপুন্ট বলেছেন, এই সংকট ‘মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে’ এবং সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি করতে পারে। খালগুলোর আশপাশের পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর।

থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অন্যান্য দুর্যোগ ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি তারা আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী রান্নাঘর স্থাপন করছে। অন্যদিকে, ব্যাংকক মেট্রোপলিটন প্রশাসন স্কুলগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করেছে। বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করতে আসা মানুষের ভিড়ে সুপারমার্কেটগুলোও জমজমাট হয়ে উঠেছে।

১৯ বছর বয়সি সানসুক লাওওয়াচারাকুল বলেন, ‘আমিও চিন্তিত, কারণ আমি আগে থেকে খাবার মজুত করিনি। আমার বাবা-মা আমার সঙ্গে না থাকায় এর আগে কখনো একা এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।’

শনিবার সরকার খালের কাছাকাছি বসবাসকারী লোকজনকে জরুরি ভিত্তিতে তাদের জিনিসপত্র উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

এর আগে, বন্যার পানিতে ঘেরা একটি কন্ডো থেকে মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় ব্যাংককের বাসিন্দা সুপাকার্ন জুলাভিজিতফং বলেন, ‘স্থানান্তরের কথা ভাবার মতো যথেষ্ট সচেতন আমি ছিলাম না।’

শহরের প্রধান বিমানবন্দর সুবর্ণভূমি স্বাভাবিকভাবে চালু থাকলেও পর্যটন কর্তৃপক্ষ ভ্রমণকারীদের যাতায়াতের পরিকল্পনায় অতিরিক্ত দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় হাতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

নভেম্বরে থাইল্যান্ড কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল। এতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে অন্তত ১৪৫ জন নিহত এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।