ইরানে নতুন করে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের নিকটবর্তী হরমুজ প্রণালি এলাকায় নতুন করে সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিখ্যাত ‘ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নগরী’ খ্যাত এই দ্বীপটির সংলগ্ন জলসীমায় দুটি মাছ ধরার নৌকা লক্ষ্যবস্তু করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। এই আকস্মিক হামলায় অন্তত দুজন জেলে নিখোঁজ হয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘আইআরআইবি’ ও আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহের’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের উপকূল থেকে প্রায় ১৮ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হরমুজগান প্রদেশের গভর্নরের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিষয়ক ডেপুটি আহমেদ নাফিসি জানিয়েছেন, দুটি মাছ ধরার নৌকায় ওই সময় চারজন নাবিক ছিলেন। হামলার পর দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপর দুজন জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই জোরালো অভিযোগ তোলা হলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থিত কেশম দ্বীপে ইরানের শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই জলসীমায় নতুন করে মার্কিন হামলার এই দাবি দুই দেশের মধ্যকার চলমান বৈরিতাকে আরও চরম মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।
এর আগে, ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের চাপ ও প্ররোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবারও এ অঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করেন, তাহলে যুদ্ধের আগুন আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, এবার সংঘাতের সমাপ্তি ট্রাম্পের হাতে থাকবে না। বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।
(2)-6182f1.jpg)


