logo

প্যারিসে শিক্ষার্থীদের অবরোধে বন্ধ লুভর মিউজিয়াম

প্যারিসে শিক্ষার্থীদের অবরোধে বন্ধ লুভর মিউজিয়াম
ফ্রান্সের প্যারিসে দেশজুড়ে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে বিক্ষোভকারীরা ল্যুভর মিউজিয়ামের প্রবেশপথগুলো অবরুদ্ধ করেন (১৯ অক্টোবর, ২০২৬)। ছবি: আনাদোলু

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে চলমান ‘হাই স্কুল’ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং পুলিশের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে সোমবার লুভর মিউজিয়ামের প্রবেশপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় জাদুঘরটি খুলতে পারেনি।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দৈনিক লে প্যারিজিয়াঁ-এর বরাতে জানা যায়, অবরোধের কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ব্যাহত হয়।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন জাদুঘর প্রাঙ্গণে অবস্থিত একোল দ্য লুভরের শিক্ষার্থীরা। শ্রমিক ইউনিয়ন সিএফডিটি জানিয়েছে, ফ্রান্সের জাতীয় চারুকলা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিক্ষোভের সঙ্গে লুভর জাদুঘরের নিজস্ব কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং প্রতিবাদের জন্য জাদুঘরটিকে ‘প্রতিধ্বনি ছড়ানোর মাধ্যম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানানো শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটি বলেছে, অন্তত দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাদুঘরটি বন্ধ থাকতে পারে। তবে ইউনিয়নটি নিজে অবরোধে অংশ নেয়নি।

শিক্ষা, কাজ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের দাবিতে আন্দোলন

বিক্ষোভকারীরা তাদের কর্মসূচিকে পড়াশোনা, কাজ এবং মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারের বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্সে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। সোমবারের এই অবরোধ সেই আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা।

এর মাত্র দুই দিন আগে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে কয়েকটি শহরে ওই বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটে।

শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান একোল দ্য লুভর

লুভর জাদুঘর প্রাঙ্গণে অবস্থিত একোল দ্য লুভর একটি উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে শিল্পের ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান ও জাদুঘরবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের এই অবরোধ ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চলমান অসন্তোষের আরেকটি প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।