সৌদি আরবের সৌর বিদ্যুৎ পার্কে বিলুপ্তপ্রায় হরিণ প্রজনন কেন্দ্র

মরুর বুকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে সৌদি আরব। দেশটির একটি চালু সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন হুমকির মুখে থাকা বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও পুনর্বাসনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন আর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকে একই প্রকল্পের আওতায় এনে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ।
সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভের উদ্যোগে ‘ReWildingVoltaics’ কর্মসূচির আওতায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে মরু গেজেলের প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে ৩৩টি স্ত্রী ও ৫টি পুরুষ হরিণ ছাড়া হয়েছে।
প্রকল্পটি সৌদি আরবের আমাল পর্যটন গন্তব্যে অবস্থিত। প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রায় ৫০৫ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এখান থেকে আমালা (AMAALA) প্রকল্পে শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, সৌর প্যানেলের নিচের জায়গাকেই গেজেলগুলোর আবাস ও প্রজননক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মরুভূমির প্রচণ্ড রোদ থেকে সৌর প্যানেলগুলো নিচের ভূমিতে ছায়া তৈরি করে। এতে মাটির তাপমাত্রা প্রায় ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যায়—যা প্রাণীগুলোর জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করছে।
নিরাপত্তার জন্য পুরো এলাকা বিশেষ বেড়া দিয়ে ঘেরা হয়েছে। ফলে শিকারি প্রাণীর আক্রমণ থেকে গজেলগুলোকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও প্রজনন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা আরও বড়। সফলভাবে প্রজনন হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হরিণের সংখ্যা কয়েকশতে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সংখ্যায় পৌঁছানোর পর এসব প্রাণীকে সৌদি আরবের বিশাল রয়্যাল রিজার্ভের প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে বংশবিস্তার করতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে মরুভূমির হারিয়ে যেতে বসা বন্যপ্রাণীর পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ একই জায়গায় তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জীববৈচিত্র্য দুইয়ের সহাবস্থান।
মরুভূমির যে ভূমি একসময় শুধু সূর্যের তাপে উত্তপ্ত হতো, সেই ভূমিতেই এখন সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি জন্ম নিচ্ছে নতুন প্রাণ—প্রকৃতি ও প্রযুক্তির সহাবস্থানের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের এই উদ্যোগকে পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
