বিক্ষোভে উত্তাল পর্তুগাল, রাজপথে হাজার হাজার নাগরিক

পর্তুগালে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ক্রমশ বৃদ্ধির ফলে নাগরিকদের জীবিকা নির্বাহ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে জীবনযাত্রায়। ইউরোপের দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। এর জেরে রাস্তায় বিক্ষোভে নেমেছে দেশটির জনগণ। রাজধানী লিসবন ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পোর্তোতে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রধান দুই শহরের পাশাপাশি দেশটির আভেইরো, ব্রাগা ও ফুঞ্চালেও বিক্ষোভের অনুষ্ঠিত হয়। ‘আর এভাবে বাঁচা যায় না’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম এসব বিক্ষোভের আয়োজন করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে নানা স্লোগান দেন। তাদের হাতে ছিল ‘এই বেতনে জীবনযাপন সম্ভব নয়’ লেখা প্ল্যাকার্ড।
অন্য বিক্ষোভকারীরা ‘৫০ বছর বয়স হওয়ার আগেই আমি বাবা-মায়ের বাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকতে চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ডও তুলে ধরেন। পোর্তোতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিক্ষোভকারী সমবেত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে একটি দলকে ‘স্পেনে যেভাবে করা হয়, চলুন সেভাবেই করি’ লেখা প্ল্যাকার্ডের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
লিসবনের মিছিলে অংশ নেওয়া তেরেসা ফনসেকা দেশটির সংবাদ সংস্থা লুসা-কে বলেন, ‘ইনস্টাগ্রামে দেখেছিলাম, এই প্রতিবাদ হতে যাচ্ছে। তাই আমি এসেছি। আর নয়। এই দেশের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এখন আমাদের কথা শোনাতে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামতে হবে, ঠিক যেমনটা স্পেনের মানুষ করেছিল।’
বিক্ষোভ আয়োজকদের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের পোস্টে বলা হয়, ‘মাসের শেষ পর্যন্ত চলার মতো অর্থ জোগাড় করতে, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম ও জীবনযাপনের মৌলিক ব্যয় মেটাতে এবং ঘরবাড়ি হারানোর ঝুঁকি এড়াতে আমরা সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের নিঃশেষ করে দিই। আমরা এভাবে আর বাঁচতে পারি না!’
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পারার কারণে বাড়ি থেকে বের করে দিলে গোটা দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে মারা যান ওই বৃদ্ধা। তীব্র আন্দোলনের মুখে স্পেন সরকার ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় জরুরি প্যাকেজ আনলেও পার্লামেন্টে তা পাস হতে ব্যর্থ হয়।
গত ৩ অক্টোবর মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া ও বার্সেলোনাসহ স্পেনের প্রায় ৫০টি শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। একা রাজধানী মাদ্রিদেই প্রায় ৭০ হাজার মানুষ অংশ নেন। ভ্যালেন্সিয়ায় কিছু বিক্ষোভকারীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
