logo

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানে আবারও হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

রয়টার্স
রয়টার্স
হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানে আবারও হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের
এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি প্রতীকী ছবি।

গত সপ্তাহের পাল্টাপাল্টি হামলার পর সংঘাত প্রশমনের যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা নস্যাৎ করে দিয়ে মঙ্গলবারে (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে দফায় দফায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ও ব্যাপক মাত্রার যুদ্ধ বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ওপর এ হামলা শুরু হয়।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির সাম্প্রতিক হামলা চেষ্টা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক কর্মীদের ওপর হুমকির জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি ও অন্যান্য সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির উত্তরাংশে অবস্থিত কেশম দ্বীপ, প্রধান বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস, চাবাহার এবং উপকূলীয় শহর জাস্ক ও সিরিকে একাধিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি এই হামলার জবাবে কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তবে ‘তাদের ওপর আরও দ্বিগুণ ও তীব্র আঘাত হানা হবে।’

তবে আইআরজিসির এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই নতুন দুঃসাহসের জন্য ‘তিক্ত অনুশোচনা করবে।’

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। সোমবার হরমুজ প্রণালিতে ওমানের উপকূলের কাছে দুটি বিশালাকার তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার অজ্ঞাত উৎসের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত পাওয়ার খবরের পর ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম এক দিনেই প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি ফ্লাইট বাতিল ও আকাশসীমা বন্ধের বিষয়ে তৈরি থাকতে নির্দেশ দিয়েছে।

তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যদি জ্বালানি বাণিজ্যে বাধা দেয়, তবে পারস্য উপসাগর থেকে অন্য কাউকেও তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘শত্রুরা যদি চায় আমরা তেল রপ্তানি না করি, তবে এই অঞ্চল থেকে কেউ তেল রপ্তানি করতে পারবে না।’

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটন আলোচনা করার বদলে নিজস্ব শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার ভুল নীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সংঘাতময় এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি ও আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর ব্যাংকিং, বিমান লিজসহ আইআরজিসির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কযুক্ত বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তেহরানকে ‘অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ’ করার জন্য জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে যে ছয় মাসব্যাপী সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, জুনের এক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সাময়িক বিরতিতে থাকলেও তা ব্যর্থতায় পরিণত হয়। রোববারে যুক্তরাষ্ট্রের লারাক দ্বীপে হামলা এবং তার জবাবে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে দুই দেশের এই সংঘাত পূর্ণাঙ্গ সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিল।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানে আবারও হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের