‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে উপহাস করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটনে এক নির্বাচনী প্রচারে ইরানের প্রেসিডেন্ট পদের সমালোচনা করতে গিয়ে এই ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেন।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ হলে তাকে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই হতে পারে। এতে ৬৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে নামটি সঠিক হবে বলে মন্তব্য করেন। এরপর ‘হ্যালো, মোহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করার উদাহরণ দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, বহু বছর ধরে এভাবে ডাকছি এবং কখনো ভুল হয়নি।
মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ পুরুষদের বহুল প্রচলিত নামগুলোর একটি। ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসারে অনেক মুসলিম পরিবারে ছেলেদের এ নাম রাখা হয়।
জর্জিয়ার ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত ওই সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারের অংশ হিসেবে তিনি সেখানে বক্তব্য দেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এরপর কয়েকজন মোহাম্মদ নামের ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী কি না, তা জিজ্ঞাসা করার ভান করে উপস্থিত জনতার সামনে রসিকতা করেন। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে খুব একটা সাড়া মেলেনি।
২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান।
অধিকারকর্মী ও মুসলিম অ্যাডভোকেসি সংগঠনগুলো এর আগে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় করে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের নিয়েও সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের মার্কিন সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ইলহান ওমর, যিনি সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
এদিকে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না বলে আবারও অঙ্গীকার করেছেন ট্রাম্প। এর সাত মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি অকার্যকর করে দেওয়া।
চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ (সিএআইআর) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতি এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের আংশিক ভূমিকা রয়েছে।

