logo

বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ ঠেকাতে উরুগুয়েতে পাখি চলাচলে কড়াকড়ি

আনাদোলু এজেন্সি
আনাদোলু এজেন্সি
বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ ঠেকাতে উরুগুয়েতে পাখি চলাচলে কড়াকড়ি
হাঁস-মুরগির মধ্যে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লুর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। ছবি: গণমাধ্যম থেকে

গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও পাখির জন্য অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে উরুগুয়ে। সংক্রমণ ঠেকাতে পোলট্রি ও অন্যান্য হাঁস-মুরগির চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি মেলা, নিলাম ও প্রদর্শনীও স্থগিত করা হয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কলোনিয়া এলাকায় বাড়িতে পালন করা হাঁস-মুরগির মধ্যে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লুর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। কয়েকটি মুরগি মারা যাওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হলে পরীক্ষা শুরু হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া না গেলেও পরে সরকারি পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ করে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আক্রান্ত খামার বা স্থাপনায় দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত নয়—এমন পাখির চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।

জরুরি নির্দেশনার আওতায় বাড়িতে পালন করা এবং নিয়ন্ত্রণহীন পাখির দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সরকারি পোলট্রি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত পাখি এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া পাখি সংশ্লিষ্ট মেলা, নিলাম ও জনসমক্ষে প্রদর্শনী সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে পালন করা হাঁস-মুরগিকে বন্য পাখির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে আবদ্ধ ও ছাউনি দেওয়া স্থানে রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আক্রান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সংক্রমিত বা সংস্পর্শে আসা সব পাখি মেরে নিরাপদে অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য দূষিত স্থান ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যাপকভাবে পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে।

পোলট্রি খামারিদের সর্বোচ্চ জৈবনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে অনুমোদনহীন ব্যক্তি ও যানবাহনের প্রবেশ বন্ধ করা, বন্য পাখির সংস্পর্শ থেকে খাবার ও পানির উৎস সুরক্ষিত রাখা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহারের ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংক্রমিত পাখির মাংস বা ডিম খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় না। তবে আক্রান্ত পাখির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রাখতে কৃষি ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

বার্ড ফ্লুর এইচ৫এন১ ভাইরাস মূলত পাখিকে আক্রান্ত করে। তবে আক্রান্ত পাখির খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে বিরল ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হলে রোগটি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ধারাবাহিকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে মৃত বা অসুস্থ পাখি খালি হাতে স্পর্শ না করার আহ্বান জানিয়েছে।