logo

আল-আকসায় ঢুকে পড়েছে শত শত ইসরায়েলি

আল-আকসায় ঢুকে পড়েছে শত শত ইসরায়েলি
পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ইসরায়েলি পতাকা হাতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। ছবি: ওয়াফা

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে আবারও জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করেছে একদল ইসরায়েলি দখলদার। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তারা একপ্রকার হামলা চালিয়েছে এই পবিত্র স্থানে।

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, আল-আকসা মসজিদ চত্বরের মরক্কান গেট দিয়ে ২৫০ অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা অনুপ্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশে প্রহরায় মসজিদ চত্বরেই ননুমোদিত প্রার্থনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন তারা।

১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক ‘স্ট্যাটাস কো’ বা বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় রাখার ঐতিহাসিক চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা চত্বরে অমুসলিমদের পরিদর্শনের অনুমতি থাকলেও সেখানে কোনো প্রকার প্রার্থনা বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের অনুমতি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত এই প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের কট্টর-ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির নিয়মিত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। ২০২২ সালে মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি নিজেও একাধিকবার উসকানিমূলকভাবে আল-আকসা চত্বরে এই ধরণের অবৈধ অনুপ্রবেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

আল-আকসা মসজিদ বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে সমাদৃত। তবে ইহুদিরা এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ বলে দাবি করে। তাদের দাবি, প্রাচীনকালে এই স্থানে দুটি ইহুদি মন্দির অবস্থিত ছিল।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, আল-আকসা মসজিদসহ পুরো অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেমকে সম্পূর্ণভাবে ইহুদি রাষ্ট্রীয়করণ করার জন্য ইসরায়েল তাদের হামলা বাড়িয়ে চলেছে। এর মাধ্যমে শহরটির দীর্ঘদিনের আরব ও ইসলামি ঐতিহ্য ও পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ বিশ্ব সম্প্রদায় ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের মাধ্যমে এই শহর অবৈধভাবে দখল করা কিংবা ১৯৮০ সালে তাদের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি।