logo

ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার কারণে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার

টাইমস অব ইন্ডিয়া
টাইমস অব ইন্ডিয়া
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার কারণে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার
ভারতের উত্তর প্রদেশে বেশি আওয়াজে আজান দেওয়ায় মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: এবিপি

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনর জেলায় নির্ধারিত শব্দসীমার চেয়ে বেশি আওয়াজে লাউডস্পিকারে আজান দেওয়ার অভিযোগে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মসজিদের মাইকও জব্দ করা হয়। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মুয়াজ্জিনের নাম মোহাম্মদ ফাইজান। গত শনিবার নাজিবাবাদে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে জেলার ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই মসজিদ থেকে উচ্চস্বরে আজানের শব্দ শুনতে পান বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরই তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার ‘সমাধান দিবস’ নামে একটি অভিযোগ শুনানি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় মহল্লা মাকবারা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় আজানের শব্দ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ সুপারের নির্দেশের পর কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কুমার মালিক মসজিদ থেকে মাইক জব্দ করেন এবং মুয়াজ্জিন ফাইজানকে আটক করেন।

পরে উপপরিদর্শক সৌরভ কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে শব্দদূষণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফাইজানের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া শান্তিভঙ্গের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দায়িত্বে অবহেলায় পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

ঘটনার পর এলাকায় শব্দ নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ।

একই সঙ্গে বিজনর জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর লাউডস্পিকার নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে; এ মর্মে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিট পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে এসব হলফনামা সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে।

পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে শব্দ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এর আগে সরানো হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি মাইক

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে বিজনর জেলায় ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর লাউডস্পিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে মোট ২ হাজার ৫০৯টি মাইক সরিয়ে নেওয়া হয়।

এর মধ্যে মসজিদ থেকে ১ হাজার ৩২৩টি, মন্দির থেকে ১ হাজার ১১৬টি এবং গুরুদুয়ারা থেকে ৭০টি মাইক সরানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

জেলায় ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে এখনও যেসব মাইক ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো যেন নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজনরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং বলেন, সরকার ও আদালতের নির্দেশনা অনুসারে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দে মাইক চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে চলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে কার্যকর করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।