ফিলিস্তিনি কনটেন্টে মেটার কড়াকড়ি, কমছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের রিচ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ফিলিস্তিনি কনটেন্টে মেটার কড়াকড়ি, কমছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের রিচ
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে মেটার কন্টেন্ট মডারেশন পদ্ধতি ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বরকে পদ্ধতিগতভাবে সংকুচিত করেছে। পাঁচ বছর ধরে হাজার হাজার ডিজিটাল অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনে নির্মম নির্যাতন নিয়ে তৈরি কনটেন্টের রিচ কমিয়ে দিচ্ছে মার্কিন জায়ান্ট মেটা।

Advertisement

ফিলিস্তিনি ডিজিটাল অধিকার সংস্থা ‘৭আমলেহ’ এবং উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘দ্য প্ল্যাটফর্মসাইড অব প্যালেস্টাইন ২০২১-২৫’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে আসে।

প্রতিবেদনে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৭আমলেহ-এর ‘প্যালেস্টাইনিয়ান অবজারভেটরি ফর ডিজিটাল রাইটস ভায়োলেশনস’-এ জমা পড়া ৩ হাজার ৫২০টি অভিযোগ বিশ্লেষণ করা হয়।

এতে গবেষকেরা দেখান, ফিলিস্তিনসংক্রান্ত অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা, পোস্ট মুছে ফেলা, লাইভস্ট্রিমে বিধিনিষেধ এবং কন্টেন্টের দৃশ্যমানতা কমানোর মতো পদক্ষেপ নিয়মিত নেওয়া হয়েছে। প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলোতে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের এই কাঠামোগত ক্ষয় বোঝাতে তারা ‘প্ল্যাটফর্মিসাইড’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

গবেষণায় বলা হয়, মার্কিন জায়ান্ট মেটার এই পদক্ষেপগুলোর ব্যাপকতা কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

নথিভুক্ত অভিযোগগুলোর মধ্যে মাত্র ৩২.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মেটার নীতিমালার প্রত্যক্ষ লঙ্ঘন ছিল। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তার ৫৭.২ শতাংশই করা হয় মেটার ‘বিপজ্জনক সংস্থা ও ব্যক্তি’ নীতিমালার আওতায়।

সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি; ৭১.১ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নীতির অতিরিক্ত প্রয়োগের ফলে ফিলিস্তিন ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিক, গণমাধ্যম ও কর্মীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা ‘সাসপেনশন’ ছিল সবচেয়ে বেশি নথিভুক্ত পদক্ষেপ, যা মোট ঘটনার এক-তৃতীয়াংশ। এ ছাড়া কন্টেন্টের প্রচার প্রচ্ছন্নভাবে কমিয়ে দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে, যা ব্যবহারকারীদের কাছে ‘শ্যাডো ব্যানিং’ নামে পরিচিত। এর ফলে কোনো নোটিশ ছাড়াই ব্যবহারকারীর রিচ কমে যায়।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ৭আমলেহ-এর পক্ষ থেকে মেটার কাছে দাখিল করা ২ হাজার ৮২৮টি আপিলের প্রায় অর্ধেকেরই কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

যদিও মেটা পূর্বে তাদের আরবি ভাষার মডারেশন ব্যবস্থার সঠিকতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার রক্ষায় স্বাধীন অডিট পরিচালনা, ‘বিপজ্জনক সংস্থা’ নীতিমালার সংস্কার এবং সাংবাদিকতামূলক কন্টেন্টে বাড়তি সুরক্ষার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কনটেন্টে মেটার কড়াকড়ি, কমছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের রিচ