‘শতাব্দীর সেরা’ সূর্যগ্রহণের অপেক্ষা, ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড অন্ধকারে ডুববে যেসব দেশ

সিএনএন
‘শতাব্দীর সেরা’ সূর্যগ্রহণের অপেক্ষা, ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড অন্ধকারে ডুববে যেসব দেশ
সূর্যগ্রহণের বিরল দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম সেরা ‘ওপেন-এয়ার মিউজিয়াম’ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ মিশরের প্রাচীন শহর লাক্সর। হাজার বছর ধরে বিশাল সব সমাধি, প্রাচীন মন্দির আর ঐতিহাসিক স্থাপত্যের আলোর জ্যোতি ছড়ানো এই সূর্যনগরী দিনের বেলাতেই নিমজ্জিত হবে এক গাঢ় অন্ধকারে।

Advertisement

ওই দিন শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘতম ও অনন্য পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আর এর সেরা অভিজ্ঞতা মিলবে লাক্সরে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২ আগস্ট পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণটি উত্তর আফ্রিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে দৃশ্যমান হবে। তবে লাক্সরে এই পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব হবে টানা ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড, যা ২১১৪ সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে দেখা যাওয়া দীর্ঘতম মহাজাগতিক ঘটনা হতে যাচ্ছে।

কোন কোন দেশে দেখা যাবে?

এটি ২০০৯ সালের পর শতকের দ্বিতীয় দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু করে স্পেন, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া হয়ে মিশর, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে প্রায় ২৫৯ কিলোমিটার বিস্তৃত এই ছায়ার পথ।

প্রচীন থিবস শহরের ওপর গড়ে ওঠা এবং নীল নদের দুই তীরে রাজাদের ও রানীদের উপত্যকা দিয়ে ঘেরা লাক্সরকে এউ দুর্লভ দৃশ্যের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হিসেবে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক রজার ডেভিস সিএনএন-কে বলেন, ‘৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড অনেক দীর্ঘ সময়। অন্ধকার নেমে এলে চোখের দৃশ্যমানতা যখন মানিয়ে নেবে, তখন সাধারণত অনুজ্জ্বল থাকা গ্রহ বা নক্ষত্রগুলোর অনন্য রূপ উন্মোচিত হবে।’

তবে মরুভূমির প্রচণ্ড গরম (যা নিয়মিত ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়) এবং ধূলিঝড় কিছুটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন কানাডিয়ান আবহাওয়াবিদ জে অ্যান্ডারসন।

এখনই বুক ৯০ শতাংশ হোটেল

ইতোমধ্যেই এই মহাজাগতিক বিস্ময় ঘিরে বিশ্বজুড়ে তুঙ্গে উঠেছে ‘অ্যাস্ট্রো-ট্যুরিজম’ বা জ্যোতির্বিজ্ঞানকেন্দ্রিক পর্যটন। আন্তর্জাতিক বুকিং প্ল্যাটফর্ম বুকিং ডটকমের তথ্যমতে, ২০২৭ সালের আগস্টে লাক্সরের ৯০ শতাংশেরও বেশি হোটেল এখন থেকেই বুক হয়ে গেছে। কিছু হোটেলের প্রতি রাতের ভাড়া দাঁড়িয়েছে দুই হাজার পাউন্ডের (২ হাজার ৬৯৫ ডলার) উপরে।

হার্ভার্ড অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন সংস্থা ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ ও বিলাসবহুল আবাসনসহ প্রতিটি প্যাকেজ ২৬ হাজার ডলারের বেশি মূল্যে বিক্রি করেছে, যা মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণে আফ্রিকার অবদান দীর্ঘকালের। ১৯১৯ সালে আফ্রিকার প্রিন্সিপে দ্বীপে সূর্যগ্রহণের ছবি তুলে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্বের প্রমাণ পেয়েছিলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী আর্থার এডিংটন। পরে ১৯৭৩ সালে বিজ্ঞানের খাতিরে কনকর্ড সুপারসনিক বিমানে ঘণ্টায় ১৩৫০ মাইল বেগে ছায়াকে ধাওয়া করে টানা ৭৪ মিনিট পূর্ণগ্রাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল।

মিশরের কোত্তামিয়া অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির প্রধান আশরাফ শাকার জানান, কায়রোতে ৯৪ শতাংশ সূর্য ঢাকা পড়লেও এই বিরল ঘটনাটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পর্যটকদের জন্য এক অনন্য উৎসবের দিন হয়ে থাকবে।

‘শতাব্দীর সেরা’ সূর্যগ্রহণের অপেক্ষা, ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড অন্ধকারে ডুববে যেসব দেশ