মমতার দলের নতুন নামের জন্য তিনটি প্রস্তাব

বিধানসভা উপনির্বাচনের লড়াই করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের বিবাদমান দুই গোষ্ঠীই নতুন দলের নাম ও প্রতীকের জন্য নিজেদের পছন্দের তালিকা জমা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী দলের নাম ও প্রতীকের জন্য তিনটি করে বিকল্প জমা দেয়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী শুক্রবার সকালে তাদের পছন্দের তালিকা পাঠায়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর ভেঙে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসে দলের নাম ও প্রতীকের দখল নিয়ে দ্বন্দ চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং দলের 'জোড়াফুল' প্রতীক আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত কোনও নির্বাচনে দুই গোষ্ঠীই ওই নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
এদিকে আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভার উপনির্বাচন। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছে দুই পক্ষের চারজন প্রার্থী। এমন অবস্থায় নির্বাচন কমিশনে দুই পক্ষের শুনানি চলমান অবস্থায় থাকায় স্কুটিনি রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারছিল না কমিশন। বৃহস্পতিবার রাতে কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম প্রতীক ফ্রিজ করার পর। শুক্রবার সকাল ১১ টা ছিল নতুন নাম ও প্রতীক কমিশনে জমা করার জন্য সর্বশেষ সময়। সূত্রের খবর আজই দুই পক্ষের থেকে চাওয়া দলীয় নাম ও প্রতীক ঘোষণা করতে পারে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনে কালীঘাটের পক্ষ থেকে যে তিনটি নাম পাঠানো হয়েছে সেগুলি হল- 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস', 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা' এবং 'তৃণমূল মমতা কংগ্রেস'।
প্রতীক চাওয়া হয়েছে ফুটবল খেলোয়াড় ফুটবল খেলছে (কমিশনের তালিকায় ৬৫ নম্বর) আর একটি ক্রিকেট ব্যাট (তালিকায় ৮ নম্বর)। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ রাহুল গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে বলেছেন, "এটা আপনার একার লড়াই নয়, আমাদের সবার। শুধু জানাবেন কী প্রয়োজন।"
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিকল্প হিসেবে দলের তিনটি নাম ও প্রতীক পাঠিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। তারা দলের নাম চেয়েছে 'ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস', 'ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস' এবং 'ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস' এই তিন নামের কোনও একটি। পাশাপাশি আবেদন জানানো হয়েছে খাম, টর্চ ও ব্ল্যাকবোর্ড প্রতীকের জন্য। প্রসঙ্গত, খাম চিহ্নে আইএসএফ এবং টর্চ নিয়ে এসইউসিআই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নির্বাচনে আগে লড়েছে।
২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় বিবাদের জেরে প্রথমবার দলীয় নাম ও প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনী ময়দানে নামতে চলেছে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী।
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের নির্দেশকে 'অসাংবিধানিক' বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তাঁর বক্তব্য, এই নির্দেশ প্রমাণ করেছে যে কোনও রাজনৈতিক দলকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখা যায় না এবং বংশানুক্রমে রাজনৈতিক দলের উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা যায় না।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। নিজের দলের নাম যেমন তার দেওয়া ,তেমনি ঘাসের উপরে জোড়া ফুল প্রটিকটিও ও তার নিজের হাতে আঁকা বলে জানা যায়। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর ছিল ক্ষমতায়।