সুদানে মিশরের ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত অন্তত ২০০

সুদানের উত্তর আল-ওয়াদি এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মিশর। ওই হামলায় অন্তত ২০০ সুদানি খনি শ্রমিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম সুদান টাইমস। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। আক্রান্ত এলাকাটিতে ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র খনি রয়েছে। সেখান থেকে ওই অঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে আজ রোববার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী ত্রিভুজীয় এলাকায় বিমান হামলায় কয়েক ডজন ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে চিকিৎসকদের সংগঠনটি ওই এলাকায় বিমান হামলায় খনি শ্রমিকদের হতাহতের খবরে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সংগঠনটি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।
সুদান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদান ফাউন্ডিং অ্যালায়েন্স (টিএএসআইএস) অভিযোগ করেছে, মিশর উত্তর আল-ওয়াদি এলাকায় হামলা চালিয়ে অন্তত ২০০ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। ওই এলাকায় হস্তশিল্পভিত্তিক খনি পরিচালিত হয়। জোটটির দাবি, এ হামলার মাধ্যমে সুদানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে মিশর।
জোটটি বলেছে, এ মাত্রার হত্যাকাণ্ড সুদানের সম্পদ নিয়ে মিসরের উদ্দেশ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা ‘প্রকাশ করে’। এ ঘটনার জন্য পোর্ট সুদান কর্তৃপক্ষকে সমর্থনের বিষয়ে কায়রোর প্রতি সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর (এসএএফ) উদাসীনতাকে দায়ী করেছে জোটটি।
এদিকে সংবাদমাধ্যম সুদান ট্রিবিউন স্থানীয় শ্রমিক ও বাসিন্দাদের বরাতে জানিয়েছে, শনিবার সুদান-মিশর সীমান্তের কাছে হস্তশিল্পভিত্তিক স্বর্ণখনির শিবিরগুলোতে বিমান হামলায় কয়েক ডজন সুদানি খনি শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন।
এলাকার ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক মিরঘানি মালিকের মতে, যুদ্ধবিমানগুলো নীল নদ রাজ্যের আল-আনসারি বাণিজ্যবাজারের কাছে অবস্থিত আল-উকায়দাত খনিতে অন্তত পাঁচটি হামলা চালিয়েছে। অন্তত ২০ জন আহত শ্রমিককে জরুরি চিকিৎসার জন্য বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। অন্যদিকে, শত শত শ্রমিক পানি ও রসদ ছাড়াই জনমানবহীন পাহাড়ি অঞ্চলে পালিয়ে গেছেন।
সুদান ট্রিবিউন হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। হামলায় জড়িত বিমানগুলোও শনাক্ত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।
সুদান ও মিশরের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্ররা এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।
হামলাগুলো নিয়ে সুদানের কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে এলাকার শ্রমিকেরা হতাহত ও ধ্বংস হয়ে যাওয়া শিবিরের যাচাই না করা ভিডিওচিত্র ও ছবি প্রকাশ করেছেন।
সীমান্ত অঞ্চলে আন্তসীমান্ত উত্তেজনা বেড়েছে। মিশরের সীমান্তরক্ষীরা অভিযোগ করেছেন, সুদানি খনিজ অনুসন্ধানকারীরা মিশরীয় সংস্থার পরিচালিত স্থাপনার কাছে খননকাজ চালাতে গিয়ে অচিহ্নিত সীমান্ত অতিক্রম করেছেন।
জুন মাসে মিশরের সেনাবাহিনী জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সোনা অনুসন্ধান, চোরাচালান ও অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে ২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সীমান্ত এলাকায় জুন মাসে চালানো আরেকটি অভিযানে সুদানি খনি শ্রমিকদের মধ্যেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল।
সুদানের হস্তশিল্পভিত্তিক স্বর্ণ খাতে ২০ লাখের বেশি মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। দেশটির মোট স্বর্ণ উৎপাদনের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া বিধ্বংসী সংঘাতের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ বিকল্প জীবিকার সন্ধান করায় খাতটি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।

