পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ১৩ আরোহীর মৃত্যু

পেরুতে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানে থাকা ১১ জন যাত্রী ও দুজন পাইলট নিহত হয়েছেন। জনপ্রিয় একটি পর্যটন এলাকা পরিদর্শনের সময় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
রোববার (২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার (১ আগস্ট) নাজকা লাইনস প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের ওপর দিয়ে উড্ডয়নের সময় সেস্না ক্যারাভান সি-২০৮ মডেলের বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
পেরুর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিহত পর্যটকদের মধ্যে দুজন জার্মান, দুজন স্প্যানিশ এবং সাতজন ইতালীয় নাগরিক ছিলেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, পেরুর নাজকা লাইনস পরিদর্শনে যাওয়া একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানে থাকা ১৩ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পর্যটক ছিলেন। তারা বিখ্যাত নাজকা লাইনস দেখতে যাচ্ছিলেন। এটি মাটিতে খোদাই করা বিশাল ভূচিত্র নিয়ে গঠিত একাধিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সমষ্টি।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের কর্মকর্তা মেজর জর্জ অন্দ্রেদে বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে যে ১১ জন যাত্রী এবং দুজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।’
পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে ৪১ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।
নাজকা লাইনস দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মরুভূমিতে, আন্দিজ পর্বতমালার নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত। ধারণা করা হয়, এগুলো খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৫০০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। বিশ্ব ঐতিহ্যে এর গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো) এগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) হিসেবে ঘোষণা করেছে।
ইউনেসকো এই স্থানটিকে ‘এর পরিমাণ, প্রকৃতি, আকার এবং ধারাবাহিকতার কারণে প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রহস্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এর আগে ২০২২ সালে নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় আরেকটি ছোট পর্যটক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হন। ২০১০ সালেও একই এলাকায় বিমান দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
