logo

মিশরে ৪ হাজার বছরের পুরোনো সমাধিতে মিলল অক্ষত নানা নিদর্শন

তুর্কি টুডে
মিশরে ৪ হাজার বছরের পুরোনো সমাধিতে মিলল অক্ষত নানা নিদর্শন
মিশরের লুক্সরের একটি রাজকীয় সমাধির দেয়াল। ছবি: তুর্কি টুডে

মিশরের রাজধানী কায়রোর দক্ষিণে সাক্কারা প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় ৪ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো একটি সমাধির সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। একই সঙ্গে সেখানে মানুষের দেহাবশেষ ও বিভিন্ন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া-সামগ্রীসহ পরস্পর সংযুক্ত একাধিক সমাধিক্ষেত্রেরও সন্ধান মিলেছে।

Advertisement

শনিবার মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, সাক্কারার বুবাস্তেয়ন সমাধিক্ষেত্রে মিশরের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দলের প্রথম খনন মৌসুমে এসব নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।

নতুন আবিষ্কৃত সমাধিটি মিসরের প্রাচীন রাজ্য যুগের। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৬৮৬ থেকে ২১৮১ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই সময়কে মিসরের পিরামিড নির্মাণের যুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সমাধিটি সেখেনতিউ-পতাহ নামের একজনের বলে জানিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা।

খননে তার সমাধির উপাসনাকক্ষের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি দরজাও রয়েছে, যা এখনো মূল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে।

দরজাটির সামনে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা অ্যালাবাস্টারের তৈরি পূর্ণাঙ্গ একটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সামগ্রী পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে পূজা করার টেবিল, ফলক, শুদ্ধিকরণ পাত্র, জগ ও বাটি।

এসব সামগ্রীর ওপর খোদাই করা হায়ারোগ্লিফিক লিপিতে সমাধির মালিকের পরিচয় এবং তার বিভিন্ন পদমর্যাদার উল্লেখ রয়েছে।

নিদর্শনগুলো থেকে জানা যায়, সেখেনতিউ-পতাহ রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন রাজকীয় কোষাধ্যক্ষ, রাজার নির্মাণকাজ ও রাজকীয় নথিপত্রের তত্ত্বাবধায়ক, রাজকীয় ফরমানের গোপন তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, দেবী মা’আতের পুরোহিত এবং রাজকীয় লেখকদের তত্ত্বাবধায়ক।

মিশরের পুরাকীর্তি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আবদেল বাদি বলেন, এসব সামগ্রী একই জায়গায় এবং প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় প্রাচীন যুগের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার ও রীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

খননকাজে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত কয়েকটি সমাধি ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব স্থানে বহু মানুষের সমাধি, বিপুল পরিমাণ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার রঙিন কার্টোনাজ শতাধিক সিরামিকের ছোট প্রতিমা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া তিনটি পাথরের কফিনও পাওয়া গেছে, যেগুলো সিল করা ছিল। এসেব সঙ্গে কাঠের তৈরি বাজপাখির মূর্তি, মাটির পাত্র ও বেশ কিছু প্রত্নবস্তু ছিল।

সাক্কারা প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার প্রধান ও খনন দলের প্রধান আমর আল-তাইয়েব বলেন, এসব আবিষ্কার প্রাচীন মিশরের সমাধি দেওয়ার রীতি সম্পর্কে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ে কীভাবে এই সমাধিক্ষেত্র পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।

প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাচীনকালেই সমাধির কয়েকটি স্থান লুট হয়েছিল। লুটেরারা সমাধির কক্ষগুলোর মধ্যে যাতায়াতের জন্য দেয়াল কেটে পথ তৈরি করেছিল বলে জানান আল-তাইয়েব।

তবে প্রাচীন ওই লুটপাটের পরও উদ্ধার হওয়া নিদর্শনগুলোর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অনেক। এসব নিদর্শন সাক্কারার বিন্যাস, স্থাপত্য ও বিভিন্ন সময়ে এর ব্যবহারের ধাপ সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে পারে বলে জানিয়েছে মিশরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয়।

বুবাস্তেয়ন নামটি এসেছে প্রাচীন মিশরের বিড়াল-সম্পর্কিত দেবী বাসতেতের নাম থেকে। মিশরের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এই এলাকা সমাধি ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার পালনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক দলটি এখনো আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলোর নথিভুক্তকরণ ও বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই এলাকায় আরও স্থাপনা ও প্রত্নবস্তু পাওয়ার বেশ সম্ভাবনা রয়েছে।