logo

ভূমধ্যসাগরে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে নিহত ৭, নিখোঁজ ২৩

রয়টার্স
রয়টার্স
ভূমধ্যসাগরে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে নিহত ৭, নিখোঁজ ২৩
উত্তর সাইপ্রাসে উল্টে যাওয়া ফেরি থেকে উদ্ধারকারী নৌকা যাত্রীদের তীরে নিয়ে আসছে। ছবি: ভিডিও থেকে

উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে প্রায় ২৭০ যাত্রী ও ক্রু নিয়ে একটি ফেরি উল্টে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ফেরিটির উল্টে যাওয়া কাঠামোর ওপর উঠে অনেক যাত্রীকে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

Advertisement

রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিরেনিয়া বন্দর থেকে ফেরিটি তুরস্কের পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় মেরসিন প্রদেশের তাসুচু বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। যাত্রা শুরুর পরপরই অজ্ঞাত কারণে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উত্তর সাইপ্রাসের তুর্কি সাইপ্রিয়ট নেতা তুফান এরহুরমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ২৩ জনের সন্ধান চলছে।

সিএনএন তুর্ককে দেওয়া এক সরাসরি সাক্ষাৎকারে এরহুরমান বলেন, আমরা ২৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছি। তবে সাতজনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।

দুর্ঘটনার পরের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ফেরিটির উল্টে যাওয়া অংশের ওপর লাল লাইফ জ্যাকেট পরা বেশ কয়েকজন যাত্রী বসে বা দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে উপকূলরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি বেসরকারি নৌযানও ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

এরহুরমান বলেন, নিখোঁজ ২৩ জনের কাছে এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তাদের উদ্ধারে ব্যাপকভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফেরিটির ভেতরে কেউ আটকা পড়ে থাকলে তাদের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে না। তাদের উদ্ধারে অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করেও চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কিরেনিয়ার উপকূলের কাছেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য কিরেনিয়া থেকে তুরস্কে প্রতিদিন একাধিক ফেরি চলাচল করে।

এর আগের দিন শনিবার সাইপ্রাসে প্রবল ঝড় হয়েছিল। দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে উত্তাল সাগরে একটি পালতোলা নৌকা পাথরে ধাক্কা খেয়ে একজনের মৃত্যু হয়।

ফেরিটি ডুবে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এরহুরমান শনিবারের ঝড়ের কথা উল্লেখ করেন। তবে দুর্ঘটনার দিন ফেরি চলাচলের জন্য আবহাওয়া উপযোগী ছিল বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর এলাকায় একটি সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার অভিযান সমন্বয় করা হচ্ছে।

এরহুরমান বলেন, ‘এখানে ব্যাপক ধাক্কার সৃষ্টি হয়েছে। এমন ঘটনা আমরা আগে দেখিনি। আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন এবং সম্ভাব্য সবকিছু করা হচ্ছে।’

ফেরিটি কী কারণে পানিতে ডুবে গেল, তা জানতে তদন্ত চলছে।