বৃহস্পতিবার আকাশে বিরল চন্দ্রগ্রহণ, বাংলাদেশে দেখা মিলবে?

মহাজাগতিক পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর এবার আকাশপ্রেমীদের জন্য দারুণ সুখবর অপেক্ষা করছে। আগামী ২৮ আগস্টই দেখা মিলবে চন্দ্রগ্রহণ। তবে পূর্ণ নয়, আংশিক। অর্থাৎ চাঁদের মোট আয়তনের ৯৬ শতাংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে যাবে। সাম্প্রতিক পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর এবার মহাজাগতিক এই বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন আকাশপ্রেমীরা।
জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিন স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ বলছে, প্রাকৃতিক মহাজাগতিক নিয়মে সূর্যগ্রহণের পরপরই ফিরে এলো চন্দ্রগ্রহণ। চলতি মাসের ১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পর আগামী ২৭ ও ২৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার রাতে) আকাশে দেখা মিলবে এক অনন্য আংশিক চন্দ্রগ্রহণের।
মহাকাশবিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহণের সর্বোচ্চ মুহূর্তে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ পৃথিবীর গাঢ় কেন্দ্রীয় ছায়া বা ‘আমব্রা’র গভীরে চলে যাবে। ফলে চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে না গেলেও এক জ্বলন্ত সূর্যাস্তের মতো রক্তিম ও কমলা রঙের আভায় জ্বলজ্বল করে উঠবে, যা দেখতে অনেকটা ‘ব্লাড মুন’-এর মতো দেখাবে।
চন্দ্রপৃষ্ঠের বাকি অংশ পৃথিবীর বাইরের হালকা ছায়া বা ‘পেনামব্রা’র মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় চাঁদের উত্তর প্রান্তে রূপালি আলো বিচ্ছুরিত হবে। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী ২৮ আগস্ট রাত ১২টা ১৩ মিনিটে (ইডিটি) চন্দ্রগ্রহণটি তার সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছাবে।
চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে আসা আলো প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের বুকে পড়ার কারণে তৈরি হওয়া এই লালচে রূপ অতীতে মানুষকে ভীত করলেও বর্তমানে এটি একটি চমৎকার দৃশ্য।
কোথায় থেকে দেখা যাবে
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই ও আলাস্কার কিছু অংশ ব্যতীত পুরো উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ থেকে দর্শকরা এই গ্রহণ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। এ ছাড়া আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ২৮ আগস্ট ভোরের দিকে এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চন্দ্রগ্রহণটি বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিট হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া দেশগুলো থেকে দেখা যাবে না।
বিজ্ঞানীরা জানান, গ্রহণের সর্বোচ্চ মুহূর্তে চাঁদের অধিকাংশ অংশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় রাতের আকাশে নক্ষত্ররাজি ও মিল্কিওয়ে নতুন করে তাদের পূর্ণ রূপ নিয়ে ফুটে উঠবে। আমেরিকা মহাদেশের বাসিন্দাদের জন্য ২০২৯ সালের ২৬ জুনের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের আগে এটিই হতে যাচ্ছে অন্যতম গভীরতম চন্দ্রগ্রহণ দেখার সুযোগ।
