ইয়েমেনে হুতি-সরকারি বাহিনীর নতুন সংঘর্ষে নিহত ৬০

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে ভয়াবহ সংঘর্ষে ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। শনিবার চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এর আগে শুক্রবারও ইয়েমেনে কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ লড়াইয়ে ১২৯ জন নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব জানিয়েছে।
ইয়েমেনের তিনটি সামরিক সূত্র জানায়, শনিবার কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর ২৬ সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হুতিদের চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রের দাবি, তাদের ৩১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরের একটি চিকিৎসা সূত্র জানায়, একটি বাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। বাসটি তাইজ থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের দিকে যাচ্ছিল। সরকারি এক কর্মকর্তা হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছেন।
তাইজে দায়িত্ব পালনরত এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, হুতিরা এক দিন আগে শহরের কাছে কয়েকটি অবস্থান দখল করায় এখন ‘আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে এডেন থেকে সরকারি বাহিনীর কাছে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযান মূলত সরকারি নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী মোখা বিচ্ছিন্ন করা এবং বাব আল-মানদাব প্রণালির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে মোখা এলাকায়ও হামলা চলছে।
তাইজের প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে লোহিত সাগরের উপকূলের দিকে অবস্থিত হাইস জেলায় এএফপির সাংবাদিকেরা সরকারি বাহিনীকে পিকআপ ট্রাকে করে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে দেখেছেন। কয়েকটি গাড়িতে সেনাদের হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল ছিল, আবার কারও কাঁধে ঝোলানো ছিল রকেটচালিত গ্রেনেড।
হাইসের বাসিন্দা রাশেদ মাগহারি বলেন, হাইস ও এর বাসিন্দাদের ওপর হুতিদের ব্যাপক গোলাবর্ষণ চলছে। তবে এলাকাটি শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম এবং দখল করা সহজ হবে না।
এদিকে শনিবার এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের তিনটি বিমান হামলায় তাইজে হুতিদের সম্প্রতি দখল করা কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অন্যতম প্রধান সমর্থক।
নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা
২০২২ সালে কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর জুলাই থেকে ইয়েমেনে আবারও সহিংসতা বাড়ছে। হুতিরা রাজধানী সানায় একটি ইরানি বিমানকে স্বাগত জানানোর পর নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়।
ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর এই নতুন সংঘাত বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আরেকটি নতুন ফ্রন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বাব আল-মানদাব প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বও বেড়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব থেকে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ এই সামুদ্রিক করিডর।
এরই মধ্যে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে এবং সৌদি জাহাজ ও ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে হামলাও শুরু করেছে। ফলে ইয়েমেনের নতুন সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

