
ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক ও দীর্ঘকালীন শাসকদের অন্যতম নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে রাজধানী অসলোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ডের মৃত্যু সংবাদ নরওয়ের রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘রাজা হ্যারাল্ড শুক্রবার, ২৮ আগস্ট সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে অসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া’ নামক একটি বিরল রক্তজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত ১৭ আগস্ট থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পরবর্তীতে তার রক্তে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়।
রাজপরিবারের সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার রাজার সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করেছিলেন। রাজপরিবারের কর্মকর্তারা তার অবস্থা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হয়ে উঠেছে বলে সতর্ক করার পর প্রাসাদের বাইরে ভিড় জমেছিল এবং রাজার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ ৩৫ বছর সিংহাসনে থাকা পঞ্চম হ্যারাল্ড নরওয়ের রাজপরিবারকে আধুনিক ও সংস্কারমুখী করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী বাবা রাজা ওলাভ পঞ্চমের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি তৈরি করেন তিনি।
১৯৯১ সালে বাবার মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন হ্যারাল্ড। মৃত্যুর সময় তিনি ছিলেন ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক ক্ষমতাসীন রাজা। তার আগে ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক শাসক ছিলেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেব নরওয়ের পরবর্তী রাজা হবেন তারেই ছেলে যুবরাজ হাকন। তিনি রাজা অষ্টম হাকন হিসেবে রাজত্ব করবেন।
রাজার মৃত্যু এমন এক সময়ে হলো যখন নরওয়ের রাজপরিবার বেশ কিছু বিতর্কের মুখোমুখি। নতুন রানি মেটে-মারিত মার্কিন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতের যোগাযোগের কারণে কড়া সমালোচনার মুখে রয়েছেন। এছাড়া তার আগের স্ত্রীর ছেলে মারিয়াস বোর্গ হাইবি ধর্ষণের অভিযোগে গত জুনে চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

