logo

ফিলিপাইনের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংসামোরোতে প্রথম সংসদ নির্বাচন

ফিলিপাইনের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংসামোরোতে প্রথম সংসদ নির্বাচন
দক্ষিণ ফিলিপাইনের মারান্তাও শহরের একটি মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পরীক্ষা করছে সেনাবাহিনী। ছবি : এপি

দক্ষিণ ফিলিপাইনের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংসামোরো অঞ্চলে প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় ২৪ লাখ ভোটার সোমবার এই নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। ২০১৯ সালে অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার পর এটাই প্রথম সংসদ নির্বাচন।

দীর্ঘ কয়েক দশকের বিদ্রোহ ও সংঘাতের পর স্বায়ত্বশাসনের পথে বাংসামোরোর জন্য এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনে মোট ৮০টি আসনের জন্য ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের জন্য ৪০টি, বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের জন্য ৩২টি এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের জন্য আটটি আসন রয়েছে। নির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে অঞ্চলটির নির্বাহী প্রধান বা মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচন কয়েক বছর ধরে পিছিয়ে যাওয়ার পর এবার ভোটার উপস্থিতি অন্তত ৮০ শতাংশ হবে বলে আশা করছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

তবে ভোট শুরুর আগের দিন সহিংসতার ঘটনায় নির্বাচনের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান জর্জ গার্সিয়া জানান, রোববার রাতে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার পর কোটাবাতো শহর নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। শহরটির পৃথক দুটি ঘটনায় একটি হাতে তৈরি বোমা বিস্ফোরণে সেটি বহনকারী ব্যক্তি আহত হন। আরেক ঘটনায় গুলি ছোড়া হলেও কেউ আহত হননি।

এ ছাড়া বাসিলান প্রদেশের মালুসো শহরেও নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। সেখানে ৬৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টিতে আগে থেকেই ভোট দেওয়ার ব্যালট পাওয়া গেছে। এসব কেন্দ্রে নতুন ব্যালট ছাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন গার্সিয়া। ফলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ কিছুটা দেরিতে শুরু হবে।

নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টি বা ভোট কেনার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাংসামোরো জনগণের নিজস্ব ভূমি, পরিচয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের জন্য কয়েক প্রজন্মের সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই সংগ্রামে ভূমি হারানো, প্রান্তিকীকরণ, সংঘাত ও ত্যাগের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংসামোরো ট্রানজিশন অথরিটির অধীনে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন শাসনেরও অবসান হচ্ছে। ২০১৯ সালে অঞ্চলটির জন্য এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছিল।

২০১৪ সালের একটি শান্তিচুক্তির ভিত্তিতে বাংসামোরো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ ফিলিপাইনের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আরও বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসন দেওয়া। শান্তিচুক্তির আওতায় মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের সাবেক যোদ্ধারা অস্ত্র সমর্পণ ও পুনর্বাসনে সম্মত হন। একই সঙ্গে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিও তারা পরিত্যাগ করেন।

১৯৭০-এর দশক থেকে ওই অঞ্চলের সংঘাতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। একসময় এলাকাটি বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।