logo

দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

কলকাতা ব্যুরো , পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন
সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (UNESCO)-র নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ভিউয়িং পাস ও ভিআইপি টিকিট বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকা অর্থ তছরুপের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরের (ED) টানা কয়েক ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে বাইরে বেরিয়ে আসতেই তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (DD)।

পুলিশ সূত্রের খবর, কলকাতার বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার ভিত্তিতেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে রাতে রাখা হবে এবং বৃহস্পতিবার তাকে কলকাতা আদালতে হাজির করা হবে।

২০২২ সালে জাতিসংঘ দুর্গাপুজোকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ (Intangible Cultural Heritage) স্বীকৃতি প্রদান করে। অভিযোগ ওঠে, ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রী মধুছন্দা সেন এই সুযোগ কাজে লাগাতে ২০২২ সালের ২৮ জুন ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী একটি সংস্থা তৈরি করেন।

এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ‘মাস আর্ট’ (Mass Art) নামক ওই ভূঁইফোর সংস্থার মাধ্যমে শহরের অন্যতম বড় ২৪টি পুজো মণ্ডপের ‘প্রিভিউ শো’ ও ভিআইপি পাস বিক্রি করার জন্য বেআইনিভাবে UNESCO-র অফিসিয়াল পার্টনার হওয়ার মিথ্যা দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রাক্তন মন্ত্রীর সংস্থাটি পুজোপ্রেমীদের কাছ থেকে টিকিট ও ডোনার কার্ড বাবদ প্রতি পাসে ৪,০০০ টাকা বা তার বেশি হারে অর্থ সংগ্রহ করে। বিগত তিন বছরে এই পদ্ধতিতে প্রায় এক লাখেরও বেশি টিকিট বিক্রি করে সংস্থাটি আনুমানিক ৬০ কোটি টাকা বাজার থেকে তোলে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ ও ইডি তদন্তকারী দলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উত্তোলিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো অংশই সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি এবং রাজ্য সরকারের রাজস্ব হিসেবেও যুক্ত হয়নি।

অভিযোগ ছিল পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের প্রত্যক্ষের মধ্যেই ইন্দ্রনীল সেন ও মধুচন্দা সেন এমন দুর্নীতি করছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদল হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই 'মেঘদূত ফাউন্ডেশন'-এর কর্তা জয়দীপ মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বউবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগকারক জানান, ইউনেস্কো কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা টিকিট বিক্রির অনুমোদন দেয় না। অবৈধভাবে ইউনেস্কোর লোগো ও নাম ভাঙিয়ে এই আর্থিক তছরুপ চালানো হয়েছে।

এরপরেই পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় আর্থিক অপরাধ দমনকারী শাখা (ED) অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে (PMLA) আলাদা মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। অতীতে সেনের বাসস্থান এবং একাধিক অফিসে ইডি তল্লাশি অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তারির ঠিক কয়েকদিন আগে কলকাতা হাইকোর্ট ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে সুরক্ষার আবেদন জানানো হলে আদালত আগামী ২ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে। কিন্তু আইনি সুরক্ষা না থাকায় তার আগেই লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেপ্তার হন এই প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা।

বর্তমানে পুলিশ কর্মকর্তা ও ইডি যৌথভাবে এই আর্থিক জালিয়াতিচক্রের বাকি অংশ এবং সংগৃহীত বিপুল অর্থ কোথায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে মূল অভিযুক্ত ইন্দ্রনীল সেন ও তার সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।