logo

যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিয়ে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিয়ে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসমাইল বাঘেই। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান হামলা পাল্টা-হামলার মধ্যে আবারও যুদ্ধবিরতির আলোচনার দিকে এগোচ্ছে মধ্যস্থতাকারীরা। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন সোমবার (৩ আগস্ট) ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে ইরান।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রোববার (২ আগস্ট) ট্রাম্প তার বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে সাংবাদিকদের জানান, ইরানের সঙ্গে সোমবার আলোচনায় বসতে যাচ্ছে আমেরিকা।

ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ইরানে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ প্রায় দিয়েই ফেলেছিলেন। কিন্তু সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, কাতার ও আমিরাতের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে তার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি সৌদি যুবরাজকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—আপনি কোনটা চান, হামলা নাকি চুক্তি? তারা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চাইলেন।’ মূলত এরপরই একতরফাভাবে সোমবার আলোচনায় বসার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

এদিকে ট্রাম্পের এমন একতরফা আলোচনার আহ্বানকে পাত্তাই দিল না ইরান। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই আসে না। কোনো বৈঠক তো দূরের কথা।

সোমবার সকালে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানান, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার প্রশ্নই আসে না। কোনো ইরানি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে যাচ্ছে না, আর কোনো মার্কিন প্রতিনিধিকেও তেহরানে পা রাখতে দেওয়া হচ্ছে না।

ট্রাম্পের মনগড়া ঘোষণা উড়িয়ে দিয়ে ইরানি মুখপাত্র জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তাদের মনোযোগ এখন শুধু ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি করার দিকে। যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে কোনো বাঁধা সৃষ্টি না হয়।

রোববার (২ আগস্ট) ইরানের মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।