logo

জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি

রয়টার্স
রয়টার্স
জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি
জাপানের মার্কিন সেনাদের ওপর বিধিনিষেধ জারি। ছবি: রয়টার্স

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে স্থানীয় নারীকে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর দ্বীপে মোতায়েনরত সব মার্কিন সেনার ওপর এক মাসের জন্য সান্ধ্য আইন বা কারফিউ জারি করেছে। পাশাপাশি মদপানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে মার্কিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন এসব কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।

বিবৃতিতে জেনারেল ওয়াটসন বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিটি আচরণই আমাদের বাহিনীর ওপর পারস্পরিক বিশ্বাসকে গড়ে তোলে অথবা চিরতরে ক্ষুণ্ন করে। যখন সেই বিশ্বাসের জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তা কেবল জোটের শক্তিকেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে সরাসরি প্রভাবিত করে।’

তিনি জানান, সেনাসদস্যদের আচরণগত মান ও শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব নিয়মিত অপারেশন ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, গত শনিবার জাপানের দক্ষিণতম ওই প্রিফেকচারের রাজধানী নাহার একটি হোটেলকক্ষে ৩৯ বছর বয়সী চীনা-জাপানি নারী আনা ইয়াগিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক ছিনতাই করা হয়।

তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে ২০ বছর বয়সি মার্কিন ল্যান্স কর্পোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ব্যালার্ড পুলিশি হেফাজতে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংবাদমাধ্যম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-কে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ইয়াগির গলা টিপে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছিলেন অভিযুক্ত ব্যালার্ড। ঘটনার দিন ভোরে নির্ধারিত সময়ে ওই নারী রুম চেকআউট না করায় হোটেলের কর্মীরা ভেতরে গিয়ে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন।

সিসিটিভি ফুটেজে এক মার্কিন সেনার সঙ্গে ভুক্তভোগীকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখে প্রায় ২০০ পুলিশ কর্মকর্তা একযোগে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই টোকিও এবং নাহা শহরে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন। টোকিওতে ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজার সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধ যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে সমন্বিত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনাসদস্য কর্তৃক ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা পুরো জাপানে নজিরবিহীন ক্ষোভ ও মার্কিনবিরোধী গণবিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। তাইওয়ান ও চীনের সীমান্ত সংলগ্ন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপে বিপুল মার্কিন সেনার উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বহরের সবচেয়ে বড় অংশটি অবস্থান করছে জাপানে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার মেরিন সেনার বড় অংশই ওকিনাওয়ার ঘাঁটিতে অবস্থানরত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ওকিনাওয়া সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সামরিক বাহিনীর কারণে শব্দদূষণ, বারবার বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাদের বেপরোয়া আচরণের কারণে স্থানীয়দের অসন্তোষ এখন চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, এ ধরনের বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পারস্পরিক সম্পর্ককে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।