ওয়াশিংটনে হাইভোল্টেজ বৈঠক/ইরানের পরমাণুসহ আট বিষয়ে একমত ট্রাম্প-জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ হয়েছে। তিন দিনের এই সফরকে ঘিরে পরাশক্তি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রার আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রতিপক্ষ পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানাতে কোনো কমতি রাখেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় হাইভোল্টেজ বৈঠক শেষে ইরানের পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ প্রণালি, বাণিজ্য, সামরিক খাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে পরাশক্তি দুটির ঐতিহাসিক এই সমঝোতার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ভূ-রাজনৈতিক টানাাপোড়েন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি ৩০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক হ্রাস, এআই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু কৌশলগত বিষয়ে দুই পরাশক্তি একমত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া।
প্রথমত, দুই নেতা সম্মান, ন্যায্যতা ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল, কৌশলগত ও গঠনমূলক যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছেন।
দ্বিতীয়ত, ২০২৬ সালের নভেম্বরে চীন এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন বা এপেক ফোরামের আয়োজন করবে এবং ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করবে। এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরকে সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। দুই নেতাই এসব শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
তৃতীয়ত, শি জিনপিং ও ট্রাম্প একমত হয়েছেন যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। তারা আরও নিশ্চিত করেছেন, কোনো দেশ বা সংস্থা আন্তর্জাতিক জলপথে ট্রানজিট ফি আরোপ করতে পারবে না।
আমেরিকান সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েল ইরানের ভূখণ্ডে ১৩ হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
চতুর্থত, দুই নেতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মিত্র ছিল এবং যুদ্ধে বিজয় অর্জনের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল।
বৃহস্পতিবার দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য পরামর্শ ব্যবস্থার ইতিবাচক ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। উভয় পক্ষের ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোর অর্জনের প্রশংসা করেন তারা। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য পরিষদের প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণ, ৩০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় শুল্ক হ্রাস চুক্তির বাস্তবায়ন এবং কুয়ালালামপুরের পরামর্শ সভায় অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া।
সপ্তমত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে একটি সংলাপ প্রক্রিয়া ও যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছেন দুই নেতা। এর লক্ষ্য এ প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ও সুবিধা ব্যবস্থাপনা করা। পরবর্তী সংলাপ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। অবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা চিড়িয়াখানার জন্য চীনের দেওয়া এক জোড়া পান্ডাকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই আটটি বিষয়ের পাশাপাশি, দুই দেশের সামরিক বাহিনী তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো, সংকট প্রতিরোধ এবং চীনে নিখোঁজ মার্কিন সেনাদের দেহাবশেষ অনুসন্ধানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে শিগগির একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে।

