logo

বাংলাদেশের ইলিশ চেয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ

এএনআই
এএনআই
বাংলাদেশের ইলিশ চেয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ
ইলিশ মাছ। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

আসন্ন দুর্গাপূজার আগে ‘মাছের রানি’ খ্যাত ইলিশের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের মাছ আমদানিকারকরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়ে পুনরায় ইলিশ রপ্তানি শুরুর অনুমতি চেয়েছে কলকাতাভিত্তিক ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের কাছে ইলিশ চেয়ে চিঠি পাঠানোর তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কলকাতার ইলিশপ্রেমীদের সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ।

চিঠিতে সংগঠনটি বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ১৯৯৬ সাল থেকে তারা পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার স্থল শুল্ক স্টেশনগুলোর (এলসিএস) মাধ্যমে ইলিশ আমদানি করে আসছে। চিঠিতে তারা লিখেছে, ‘আমরা আপনাকে জানাতে চাই যে, ১৯৯৬ সাল থেকে আমরা বেনাপোল এলসিএস (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) এবং আখাউড়া এলসিএস (ত্রিপুরা, ভারত)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছ আমদানির কাজে যুক্ত ছিলাম।’

ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘দুর্ভাগ্যবশত, ২০১২ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ মাছ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। তখন থেকেই আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিয়মিত যোগাযোগ করে আসছি। কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তবে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার শুধু দুর্গাপূজার সময় এক মাসের জন্য ইলিশ মাছ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দেওয়া শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ফল বয়ে আনে না।’

বাংলাদেশের কাছে পাঠানোর ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চিঠির একটি কপি হাতে পেয়েছে এএনআই। এতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ‘এ পারের বাংলা’ ও ‘ওপারের বাংলা’র মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান। কারণ উভয় অঞ্চলের ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি প্রায় অভিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার মৎস্যরসিকরা পদ্মার ইলিশের মতো তাদের অত্যন্ত প্রিয় এই মাছটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন।

কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি আবেদন জানিয়ে আমদানিকারকরা লেখেন, ‘আমরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই ইলিশ রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি; এর ফলে ভারতের জনগণ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে।’

এর আগে বাংলাদেশ সরকার দুর্গাপূজার উপলক্ষ হিসেবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ২০০ টন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল। আমদানিকারকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার তাদের এই আবেদনটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবে।