logo

সাড়ে ১৬ হাজার বছরের পুরোনো ২৫ কচ্ছপের মূর্তি আবিষ্কার তুরস্কে

আনাদোলু
সাড়ে ১৬ হাজার বছরের পুরোনো ২৫ কচ্ছপের মূর্তি আবিষ্কার তুরস্কে
কচ্ছপ আকৃতির চুনাপাথরের মূর্তি। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চালিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো ২৫টি কচ্ছপের মূর্তি আবিষ্কার করেছেন গবেষকেরা। চুনাপাথরে তৈরি এসব মূর্তি প্রাচীন মানুষের ধর্মীয় ও আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Advertisement

বিলেজিক প্রদেশের ইনহিসার জেলায় গেদিক্কায়া পাহাড় ও ইন গুহা প্রত্নতাত্ত্বিক খননস্থলে এসব মূর্তি পাওয়া যায়। গত ১৮ মে থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত ১৪ সদস্যের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দল সেখানে খননকাজ চালায়। দলটির নেতৃত্ব দেন বিলেজিক শেখ এদেবালি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক দেনিজ সারি।

গবেষকদের মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটের কার্বন-১৪ পরীক্ষায় মূর্তিগুলোর সময়কাল খ্রিষ্টপূর্ব ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার ২০০ সালের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এগুলো প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বছর আগের এপিপ্যালিওলিথিক যুগের নিদর্শন।

চুনাপাথর দিয়ে তৈরি মূর্তিগুলোর কয়েকটির ওপর মাটির প্রলেপও রয়েছে। সবচেয়ে বড় মূর্তিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থ ২০ সেন্টিমিটার।

অধ্যাপক দেনিজ সারি বলেন, গুহার ভেতরে পাওয়া প্রত্নবস্তুগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রাচীনকালে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও আচার-অনুষ্ঠানের স্থান ছিল। চলতি বছরের খননে পাওয়া কচ্ছপের মূর্তিগুলো ওই গুহার আচারগত গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে।

গবেষকদের নজরে এসেছে, বেশির ভাগ মূর্তি খুব নিখুঁতভাবে তৈরি নয়। অনেকগুলোই অসম্পূর্ণ কিংবা দ্রুত তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে। এ কারণে এগুলো সৌন্দর্যবর্ধক বস্তু না হয়ে বিশেষ কোনো আচার-অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করছেন তারা।

গুহার ভেতরে একটি বৃত্তাকার স্থাপনার চারপাশে চুনাপাথরের কচ্ছপের মূর্তিগুলো পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকটি মূর্তি মাটির মধ্যে খাড়া করে বসানো ছিল।

সারি জানান, এর সঙ্গে তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসব হিদিরেল্লেজের কিছুটা মিল রয়েছে। ওই উৎসবে মানুষ নিজেদের ইচ্ছা বা কামনা লিখে প্রতীকী কোনো স্থানে রেখে বা মাটিতে পুঁতে রাখে।

গবেষকেরা আরও খতিয়ে দেখছেন, প্রাগৈতিহাসিক মানুষ গেদিক্কায়া পাহাড়কে কচ্ছপের মতো দেখতে মনে করত কি না। এমন ধারণা থেকে পাহাড়কে ঘিরে কোনো ধরনের উপাসনা বা আচার গড়ে উঠেছিল কি না, সেটিও তারা পরীক্ষা করছেন।

অধ্যাপক সারি বলেন, এখনই নিশ্চিতভাবে এটিকে পাহাড়কেন্দ্রিক উপাসনার নিদর্শন বলা সম্ভব নয়। তবে বেশ কয়েকটি ছোট মূর্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গেদিক্কায়া পাহাড়ের আকৃতির সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।

গবেষকদের মতে, নিকটপ্রাচ্যের নাতুফিয়ান সংস্কৃতি এবং তারও আগের উচ্চ পুরাপ্রস্তর যুগের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে কচ্ছপের প্রতীক ব্যবহারের নজির রয়েছে।

বিভিন্ন সংস্কৃতিতে কচ্ছপ দীর্ঘায়ু ও সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফলে গেদিক্কায়া গুহায় পাওয়া মূর্তিগুলোর ধর্মীয় বা আচারগত গুরুত্বের পেছনেও এমন বিশ্বাস কাজ করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৭ সালে গুহাটিতে পরিচালিত জরিপের সময় প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিলেজিক জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে সেখানে উদ্ধারমূলক খননকাজ চলে। চলতি বছর প্রেসিডেন্টের ডিক্রির অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে খননকাজ শুরু করে।

আবিষ্কৃত কচ্ছপের মূর্তিগুলো বর্তমানে পরীক্ষণ ও সংরক্ষণের জন্য বিলেজিক জাদুঘর এবং বিলেজিক শেখ এদেবালি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।