কোনোভাবেই নাগা ব্যক্তির চোখ শনাক্ত করতে পারছে না বায়োমেট্রিক স্ক্যানার!

এনডিটিভি
কোনোভাবেই নাগা ব্যক্তির চোখ শনাক্ত করতে পারছে না বায়োমেট্রিক স্ক্যানার!
কোনোভাবেই নাগা ব্যক্তির চোখ শনাক্ত করতে পারছে না বায়োমেট্রিক স্ক্যানার! ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

হাতে স্মার্টফোন, স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে সরকারি বা ব্যাংকিং অ্যাপের চিরাচরিত নির্দেশনা ‘সোজা তাকান’, ‘চোখ মেলুন’, ‘পলক ফেলুন’। কিন্তু একের পর এক চেষ্টা বিফলে যাচ্ছে। স্ক্রিনে বারবার ফুটে উঠছে একটি বার্তা ‘চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না’।

Advertisement

নিরুপায় হয়ে শেষমেশ এগিয়ে এলেন গ্রামের আরও কয়েকজন। একজন লোকটির মাথা চেপে ধরলেন, অন্য দু-একজন দুপাশ থেকে আঙুল দিয়ে টান দিয়ে তার চোখের পাতা মেলানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। যদি অ্যাপটি অন্তত এবার চোখ দুটিকে ‘চোখ’ বলে স্বীকৃতি দেয়!

দৃশ্যটি দেখতে যতটা কৌতুকপূর্ণ, আদতে তার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর ও রূঢ় বাস্তবতা। নাগাল্যান্ডের পর্যটন ও শিক্ষামন্ত্রী তেমজেন ইমনা আলোং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এমনই একটি ভিডিও শেয়ার করেন। চিরচেনা রসবোধের জন্য পরিচিত এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভিডিওটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘সংগ্রাম এক বাস্তব ব্যাপার’।

ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। সাড়ে তিন লাখের বেশি ভিউ আর হাজার হাজার লাইক জড়ো হয় পোস্টে। তবে স্ক্রিনের পেছনের মূল বিষয়টি চোখ এড়ায়নি সচেতন নেটিজেনদের। হাসির খোরাক জোগানো ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যালগরিদমের বর্ণান্ধতা এবং বৈষম্য নিয়ে এক তুমুল নীতিগত বিতর্কে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের জনগোষ্ঠীর চোখের বিশেষ শারীরিক গঠন বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘এপিক্যান্থিক ফোল্ড’; তাদের একটি স্বাভাবিক জৈবিক পরিচয়। কিন্তু আধুনিক কেওয়াইসি ও ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যারগুলো যে ডেটাসেট বা অ্যালগরিদম দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, তাতে যেন এক নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্যকেই কেবল ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বা প্রমিত মানব রূপ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিটি ভৌগোলিক ও শারীরিক বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর চেহারা ঠিকঠাক চিনতে না পেরে তাদের বারবার বাধার মুখে ফেলছে।

ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে ব্যবহারকারীরা ডিজিটাল যুগে এমন প্রযুক্তিগত সীমানার তীব্র সমালোচনা করেছেন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মানুষের স্বাভাবিক জৈবিক বৈশিষ্ট্যের কারণে যদি তাকে দৈনন্দিন নাগরিক সেবা বা ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়, তবে সেই ত্রুটি ব্যক্তির নয়, প্রযুক্তির।

চীন, জাপান কিংবা পূর্ব এশীয় দেশগুলো যেখানে তাদের নিজস্ব জনগোষ্ঠীর চেহারার উপযোগী উন্নত অ্যালগরিদম সফলভাবে ব্যবহার করছে, সেখানে ভারতে এমন বৈচিত্র্যহীন সফটওয়্যার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রযুক্তিপ্রেমীরা। তাদের দাবি, ফেসিয়াল স্ক্যানারে জটিলতা থাকলে বিকল্প হিসেবে আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক সুবিধা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

কোনোভাবেই নাগা ব্যক্তির চোখ শনাক্ত করতে পারছে না বায়োমেট্রিক স্ক্যানার!