
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত স্থানগুলো ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দ্রুত দখলে নেওয়ার সাফল্যের পেছনে দুটি বিষয়কে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ইয়েমেন পোস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সম্পাদক হাকিম আল-মাসমারি।
তার মতে, ইরানের মিলিশিয়াদের সামরিক বাহিনীর ঐক্য ও নেতৃত্বের ভূমিকাই এই সাফল্য এনে দিয়েছে। আল-মাসমারি বলেন, হুতি বিদ্রোহীরা সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল সামরিক শক্তি হিসেবে ময়দানে লড়াই করছে।
বিপরীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী অন্তত আটটি ভিন্ন নেতৃত্বের অধীনে চরমভাবে বিভক্ত। ফলে সরকারি বাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে ন্যূনতম সামরিক ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা বা কোনো কৌশলগত সমন্বয় আশা করা বাস্তবসম্মত নয় বলে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন তিনি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল ও শহরগুলো থেকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর দ্রুত পিছু হটার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের চরম ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন।
আল-মাসমারি বলেন, পশ্চিম উপকূলীয় লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের শীর্ষ নেতারা সশরীরে উপস্থিত থেকে একদম সম্মুখসারিতে থেকে যুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যদিকে, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক কমান্ডারদের যুদ্ধের ময়দানে বা সম্মুখসারিতে কোথাও দেখা যায়নি।
আল-মাসমারির মতে, কমান্ডারদের এই অনুপস্থিতিই সরকারি সেনাদের পিছু হটার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি মন্তব্য করেন, ‘সামরিক নেতৃত্ব বা সেনাপতিরা যদি সাধারণ সৈন্যদের সঙ্গে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখসারিতে না থাকেন, তবে সাধারণ সদস্য বা সেনাদের কাছ থেকে যুদ্ধের ময়দানে জীবন উৎসর্গ করার প্রত্যাশা করা অবাস্তব।’
