ইউরোপে অবৈধ পথে প্রবেশের শীর্ষে বাংলাদেশিরা

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অবৈধ পথে প্রবেশের ঘটনা সার্বিকভাবে ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে ভূমধ্যসাগরসহ বিভিন্ন বিপজ্জনক রুটে নাগরিকদের অবৈধ প্রবেশের হিসাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন বাংলাদেশিরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূল রক্ষাকারী সংস্থা ফ্রন্টেক্স।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপে প্রবেশের প্রধান দুটি রুটে যেসব দেশের অভিবাসীরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন, তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ২৪ হাজার ২০০ ও মধ্য ভূমধ্যসারগীয় রুটে ১৯ হাজার ৪০০ পারাপারের ঘটনায় উদ্ধার এবং শনাক্ত করা হয়েছে।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার শীর্ষ তিন দেশের নাগরিকদের মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে বাংলাদেশিরা। বিভিন্ন রুটের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম ছিল ‘পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে’ শনাক্ত হওয়া প্রধান জাতিগোষ্ঠীগুলো ছিল আফগান, সুদানি ও বাংলাদেশি। অন্যদিকে ‘মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটে’ লিবিয়া ও তিউনিসিয়ার কড়াকড়ির মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশিরা অন্যতম প্রধান জাতিগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইইউ-এর বহিরাঞ্চলে মোট ৭৫ হাজার পারাপার নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম। আগস্ট মাসে প্রায় ১০ হাজার ৭০০টি অনুপ্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় এই সংখ্যা ৩৮ শতাংশ কম। ইইউ-এর নতুন ‘অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি’র অধীনে প্রমিত স্ক্রিনিং, বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ ও কঠোর নথিপত্র যাচাইয়ের ফলে সীমান্ত কড়াকড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সীমান্ত পারাপারের পরিসংখ্যান কমলেও মানব পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের তরুণদের প্রাণহানি কমেনি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১ হাজার ৮০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন। পাচারকারীরা ইউরোপগামী ব্যক্তিদের অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও চলাচলের অনুপযোগী বিপজ্জনক নৌকায় ভাসিয়ে দেওয়ায় এই মানবিক বিপর্যয় ঘটেই চলেছে।
