logo

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী

রয়টার্স
রয়টার্স
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী
অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কেন্দ্র। ছবি: সাটারস্টক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের সম্ভাবনা একদিকে বাজারে স্বস্তি আনলেও অন্যদিকে সৌদি আরবে হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে অস্থিরতা বজায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১৮ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১০৫ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৭ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৫৭ ডলারে দাঁড়ায়। গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ০৬টা ২৫ মিনিটে এ দর রেকর্ড করা হয়।

এর আগে সোমবার উভয় মানদণ্ডের তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ ডলার বেড়েছিল। ওই দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে মস্কোর রাজস্ব কমানোর লক্ষ্যে আরোপিত রুশ জ্বালানিসংক্রান্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে তার প্রশাসন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ বিশ্ববাজারে জ্বালানির সংকট কিছুটা কমাতে পারে। এতে সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখা সরবরাহসংক্রান্ত উদ্বেগও কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।

তবে রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয় রয়েছে। আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরও রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সমঝোতা মার্কিন আইন লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে আপত্তি উঠেছে। মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ না করা পর্যন্ত রুশ জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার বিধান রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

তেলের বাজারে আরেকটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার ঝুঁকি। সপ্তাহান্তে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার খবরের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি তেলবাহী জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এসব ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, রাশিয়া থেকে নতুন করে ডিজেল সরবরাহ এবং সৌদি আরব থেকে তুলনামূলক স্থিতিশীল সরবরাহ বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ বা পাইপলাইনে আরও হামলার ঝুঁকি নিয়ে বাজারের উদ্বেগ এখনো বেশি।

তিনি আরও বলেন, উত্তেজনা কমার স্পষ্ট লক্ষণ না পাওয়া পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ার প্রবণতা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবহন ব্যয় বাড়ায় চাপে জ্বালানি বাজার

এদিকে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক এবং সহযোগী তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, জ্বালানি পরিবহন ও বিমার ব্যয় নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব ব্যয় পণ্যের মোট মূল্যের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির কার্যকর পরিবহন বাধাগ্রস্ত করছে।

ওপেকের মহাসচিব হাইথাম আল-গাইস সোমবার জানিয়েছেন, চলতি বছরের বৈশ্বিক তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেল থেকে ৪ লাখ ব্যারেলে নামানো হয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সংশোধন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনা তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করলেও মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাঝুঁকি এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।